কেন UGC নিয়ে ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ?উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যাতে জাতিগত বৈষম্য মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের জন্য অত্যন্ত কঠোর নতুন একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে UGC। নতুন প্রস্তাবিত গাইডলাইন অনুযায়ী প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ (ইওসি) তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর এই নয়া ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার বা ইক্যুইটি কমিটি নিয়ে ছড়াচ্ছে যাবতীয় বিতর্ক।
নতুন গাইডলাইনে কী বলা হয়েছে?
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ (ইওসি) তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সেন্টারের অধীনে গঠিত হবে একটি শক্তিশালী ‘ইক্যুইটি কমিটি’।
এই ‘ইক্যুইটি কমিটি’র প্রধান থাকবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজেই। পাশাপাশি কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন ওবিসি, এসসি, এসটি, মহিলা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিরাও।
কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?
উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে এই কমিটি জাতপাত সংক্রান্ত অভিযোগের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থাও নিতে পারবে। যদি কোনও প্রতিষ্ঠান এই নিয়মগুলি না মানে তবে UGC তাদের স্বীকৃতি বাতিল করতে পারে। এমনকী ফান্ড দেওয়া বন্ধ করতে পারে।
জেনারেল ক্যাটেগরির আশঙ্কার কারণ কী?
‘ইক্যুইটি কমিটি’ সংক্রান্ত গাইডলাইনের পরেই উত্তরপ্রদেশে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে। অনেক জেনারেল ক্যাটেগরির পড়ুয়ারা আশঙ্কা করছেন, এরফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকার খর্ব হতে পারে। সম্প্রতি, উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে ধর্ম রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি বৈষম্যমূলক এবং সামাজিক সমতা ও সংবিধানের মূল ভাবনার পরিপন্থী।
কেন নতুন নিয়ম ঘিরে দ্বন্দ্ব?
UGC-এর যুক্তি এই নিয়ম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা এবং অন্তর্ভুক্তির চেতনাকে শক্তিশালী করবে। তবে বিরোধীদের আবার পাল্টা দাবি, এই নিয়মগুলি এই ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি যে এক শ্রেণি সর্বদা শোষিত হয় এবং অন্য শ্রেণি সর্বদা শোষক। জেনারেল ক্যাটেগরির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আশঙ্কা করে জানিয়েছেন, তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, নতুন নিয়মে মিথ্যা অভিযোগকারীদের জন্য কোনও জরিমানা বা শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি, যার ফলে একতরফা ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য নতুন নিয়ম ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তর ভারতে শোরগোল পড়েছে। কমিশনের নিয়মকানুন নিয়ে জেনারেল ক্যাটেগরির মধ্যে যে ক্ষোভ বাড়ছে, সেই ক্ষোভ এখন সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের দিকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিজেপির ভেতরেই এখন প্রতিবাদের সুর উঠেছে। UGC-র নতুন নিয়মের প্রতিবাদে, সোমবার লখনউতে ১১ জন বিজেপি কর্মকর্তা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। নয়ডায়, বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি রাজু পণ্ডিত নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এই নতুন নিয়মকে জেনারেল ক্যাটেগরিদের জন্য একটি কালো আইন বলে অভিহিত করেছেন। বিজেপি নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ সঞ্জয় সিংও নতুন UGC নিয়মকানুন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।