বিশাখাপত্তনমে জাল নোট চক্রে বাংলার ২ বাসিন্দা২০১৫ সালের জাল ভারতীয় নোট (FICN) মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় সামনে এসেছে। বিশাখাপত্তনমের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (NIA) বিশেষ আদালত ৭ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালত বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের বিভিন্ন ধারায় ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা করেছে। দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তরা হলেন সাদ্দাম হোসেন, রোস্তম, আমিরুল হক, মহম্মদ হাকিম শেখ, সাদ্দাম হোসেন (বেঙ্গালুরু), সৈয়দ ইমরান এবং মোহাম্মদ আকবর আলী অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং কর্ণাটকের বাসিন্দা। ধৃতদের মধ্যে রোস্তম ও মহম্মদ হাকিম শেখ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
এনআইএ তদন্তে জানা গেছে যে এই দলটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে জাল ভারতীয় মুদ্রা পাচার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। তদন্তকারী সংস্থার মতে, ভারতের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যাহত করার লক্ষ্যে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সাদ্দাম হোসেন (বরপেটা, অসম)-কে ইউএপিএ-র ধারা ১৬ এর অধীনে ১০ বছরের সাধারণ কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশাখাপত্তনম রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাকে ৫, ০১,৫০০ টাকার জাল মুদ্রা সহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিশাখাপত্তনমে ডিআরআই এই গ্রেফতার করে।
এই মামলায়, আদালত আমিরুল হক (বরপেটা, অসম) কে ধারা ১৮ এর অধীনে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ বছর) করেছে। রোস্তম (মালদা, পশ্চিমবঙ্গ)-কে ধারা ২০ এর অধীনে ৭ বছরের সাধারণ কারাদণ্ড এবং ২,০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৮ মাস) দণ্ডিত করেছে। মহম্মদ হাকিম শেখ (মালদা, পশ্চিমবঙ্গ) কে ধারা ১৮ এর অধীনে ৮ বছরের সাধারণ কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ বছর) দণ্ডিত করেছে। সাদ্দাম হোসেন (বেঙ্গালুরু, কর্ণাটক) কে ধারা ২০ এর অধীনে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২,০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৮ মাস) করা হয়েছে। এছাড়াও, সৈয়দ ইমরান (মান্ড্যা, কর্ণাটক) এবং মোহাম্মদ আকবর আলী (কামরূপ, আসাম) কে ধারা ২০ এর অধীনে ৭ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৮ মাস) করা হয়েছে।
সৈয়দ ইমরানকে এর আগে আরেকটি এনআইএ মামলা, বিশাখাপত্তনম এফআইসিএন মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ডিআরআই-এর প্রাথমিক পদক্ষেপের পর এনআইএ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। সংস্থাটি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে, অন্যদিকে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে অন্য ছয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে জাল মুদ্রার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।