দীপকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না, প্রেমানন্দের আশ্রমের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মৃতের পরিবারের

দীপকের শ্যালক সোনু প্যাটেলের দাবি, দীপক গুরুদীক্ষা নেওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অনেক কমে গিয়েছিল। তাঁরা একাধিকবার বৃন্দাবনে গিয়ে দীপকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আশ্রমে গেলে তাঁদের অপেক্ষা করতে বলা হত।

Advertisement
দীপকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না, আশ্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ মৃতের পরিবারের ছবি : ITG
হাইলাইটস
  • এরপর দীপকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন বৃন্দাবনে পৌঁছন
  • তাঁদের দাবি, রাত প্রায় ৩টে নাগাদ তাঁরা আশ্রমে পৌঁছেছিলেন

প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও বাড়ছে। বৃন্দাবনের রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমের সাধক রসিক দুলারি শরণের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে মৃতের পরিবারের একাধিক প্রশ্নকে ঘিরে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মৃত রসিক দুলারি শরণের আসল নাম দীপক লোধী। তিনি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সাল থেকে বৃন্দাবনে থাকছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য ছিলেন।

কী বলছে পরিবার?

দীপকের শ্যালক সোনু প্যাটেলের দাবি, দীপক গুরুদীক্ষা নেওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অনেক কমে গিয়েছিল। তাঁরা একাধিকবার বৃন্দাবনে গিয়ে দীপকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আশ্রমে গেলে তাঁদের অপেক্ষা করতে বলা হত। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তাঁরা টানা তিন দিন আশ্রমে গিয়ে দীপকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দেখা করতে পারেননি।

এরপর দীপকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন বৃন্দাবনে পৌঁছন। তাঁদের দাবি, রাত প্রায় ৩টে নাগাদ তাঁরা আশ্রমে পৌঁছেছিলেন। সেখানে দীপকের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁদের বাইরে বসতে বলা হয়। পরিবারের দাবি, সকাল প্রায় ৮টা পর্যন্ত তাঁরা অপেক্ষা করেন। এরপরও দীপকের বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। সকাল ৯টা নাগাদ তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে দাবি পরিবারের।

কীভাবে মৃত্যু?

ঘটনাটি বৃন্দাবনের কোতয়ালি এলাকার গুরু কৃপা কুঞ্জের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ দীপক চারতলা থেকে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মাথা ও শরীরে গুরুতর চোট ছিল। সর্বোদয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে।

Advertisement

আত্মহত্যা, নাকি অন্য কিছু?

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ এবং শরীরে থাকা আঘাত সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পরিবারের দাবি, কেন সন্দেহ?

দীপকের পরিবার জানিয়েছে, তাঁকে দেখে কখনও মনে হয়নি যে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। পরিবারের দাবি, তিনি স্বাভাবিকই ছিলেন এবং এমন কোনও কথা তাঁদের বলেননি, যাতে তাঁর আত্মহত্যার আশঙ্কা করা যায়।

পরিবারের আরও দাবি, দীপক কিছু মানুষের সঙ্গে এমন কথা বলেছিলেন, যাতে মনে হয়েছিল তাঁর সঙ্গে কোনও সমস্যা হয়েছিল। তবে ঠিক কী সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।

দীপকের শরীরের কয়েকটি আঘাত নিয়েও পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের দাবি, তাঁর গোপনাঙ্গের কাছেও আঘাতের কথা তাঁরা জানতে পেরেছেন। এই বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখার দাবি করেছে পরিবার।

আশ্রমের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

পরিবারের অভিযোগ, দীপক দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা আশ্রমে গেলেও কখনও এক ঘণ্টা, কখনও দু'ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলা হত।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও আশ্রমের তরফে তাঁদের বিস্তারিত জানানো হয়নি। এমনকী তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে বা সমবেদনা জানাতেও আশ্রমের কেউ আসেননি বলে দাবি পরিবারের। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আশ্রমের কোনও সরকারি বক্তব্য এই মুহূর্তে সামনে আসেনি। ফলে পরিবারের বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এখন পরিবারের মূল প্রশ্ন, দীপকের মৃত্যু ঠিক কীভাবে হল? তিনি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক রিপোর্টের পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। পরিবার চাইছে, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দীপকের মৃত্যুর আসল কারণ সামনে আসুক।

POST A COMMENT
Advertisement