আবার দেশের কৃষকদের দিল্লি অভিযান, বড় আন্দোলনের তোড়জোড়, কেন?

ফের একবার কৃষক আন্দোলন। এবার পঞ্জাব- হরিয়ানা সীমান্ত দিয়ে দিল্লি অভিমুখে রওনা দিয়েছেন কৃষকরা। ভারত-আমেরিকা প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন কৃষকেরা।

Advertisement
আবার দেশের কৃষকদের দিল্লি অভিযান, বড় আন্দোলনের তোড়জোড়, কেন?হরিয়ানা-পঞ্জাব সীমান্ত থেকে দিল্লি অভিযানে কৃষকরাও
হাইলাইটস
  • ফের একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল কৃষকরা।
  • দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রতিবাদে আবারও একবার রাস্তায় নেমেছেন কয়েকশো কৃষক ও সামাজিক সংগঠন।
  • ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-র ব্যানারে এই আন্দোলনে নেমে দিল্লি অভিমুখে রওনা দিয়েছেন পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকেরা।

ফের একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল কৃষকরা। ভারত-আমেরিকা প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রতিবাদে আবারও একবার রাস্তায় নেমেছেন কয়েকশো কৃষক ও সামাজিক সংগঠন।  ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-র ব্যানারে এই আন্দোলনে নেমে দিল্লি অভিমুখে রওনা দিয়েছেন পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকেরা। 

যদিও বর্ডার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৬৩ নং ধারাও। রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে, সরকার কৃষকদের দুটি প্রধান দাবি মেনে নিয়েছে। জানা গিয়েছে, হরিয়ানা সরকার ইতিমধ্যেই আটক কৃষক নেতাদের মুক্তি দিতে এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে সম্মত হয়েছে।

কৃষকরা চাইছে আলোচনার মধ্যে সমস্যার মীমাংসা করতে

কৃষকরা এই ইস্যুতে আন্দোলনের রাস্তা বেছে নিলেও, তাঁরা চাইছে আলোচনার টেবিলেই এই সমস্যার মীমাংসা হোক। কৃষক নেতা সরওয়ান সিং পান্ধের জানান, কৃষকরা দিল্লি যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু তাঁদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণ সরকারের ওপর নির্ভর করছে। 

নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কৃষকেরা কোনও অবস্থাতেই ব্যারিকেড ভাঙবে না এবং সরকারের সঙ্গে কেবল আলোচনার মাধ্যমেই তাদের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করবে। তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, কৃষক সংগঠনগুলো বর্তমানে সংঘাতের চেয়ে আলোচনাকেই বেছে নিতে চাইছে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কেন কৃষকেরা চিন্তিত?

কৃষকরা বলছেন, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং গ্রামে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাঁরা মনে করছেন, বাজারে বিদেশি পণ্যের এন্ট্রি হলে তা স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হবে এবং এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই কৃষকরা এই চুক্তিটি বাতিলের দাবিতে অটল।

সরকার কী জানাচ্ছে?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান 'মঙ্গল মিলন' বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)-র বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন এই চুক্তিতে, কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এতে তাঁদের কোনও ক্ষতি হবে না।

Advertisement

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০-২০২১ সালে প্রায় ১৮ মাস ব্যাপী আন্দোলন করেছিলেন কৃষকেরা। সেই আন্দোলনের সময় কার্যত অচল হয়ে গিয়েছিল দিল্লির একটি অংশ। তখন মূলত  তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতা করে পথে নেমেছিলেন দেশের অন্নদাতা কৃষকেরা। তাঁদের দাবি ছিল, যে কোনও মূল্যে আইন প্রত্যাহার করতে হবে। টানা দেড় বছর রোদ, জল, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় রাজধানীর সীমানায় আন্দোলন করেছেন তাঁরা। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন সরকারের সঙ্গে। শর্ত না মানা হলে ফিরে গিয়েছেন আন্দোলনস্থলে। কিন্তু অবস্থানে অনড় থেকেছেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাবি মেনে নেয় কেন্দ্র সরকার।


 

POST A COMMENT
Advertisement