
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন বার্তায় তাঁকে স্মরণ করলেন তাঁর পুত্র ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বাবার সঙ্গে নিজের একটি পুরোনো ছবির কোলাজ শেয়ার করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দক্ষ, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ভারত গড়ার যে স্বপ্ন রাজীব গান্ধী দেখেছিলেন, তা পূরণ করার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেবেন।
রাহুল লেখেন, 'বাবা, আপনি যে আধুনিক, শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব। আপনার শিক্ষা, মূল্যবোধ ও স্মৃতি সবসময় আমার পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।'
বুধবার সকালে দিল্লিতে বীর ভূমিতে গিয়ে বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান রাহুল গান্ধী। এ দিন ছিল রাজীব গান্ধীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরে একটি নির্বাচনী সভায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন রাজীব গান্ধী। অভিযোগ, এই হামলার পিছনে ছিল জঙ্গি সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম। সে সময় রাজীব গান্ধীর বয়স ছিল মাত্র ৪৬ বছর, আর রাহুল গান্ধীর বয়স ছিল ২০।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং কে সি ভেনুগোপাল সহ কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। তাঁরা দেশের আধুনিকীকরণে রাজীব গান্ধীর অবদান স্মরণ করেন।
মল্লিকার্জুন খাড়গে এক্স-এ লেখেন, 'ভারত একটি প্রাচীন দেশ হলেও এটি এক নবীন জাতি। রাজীব গান্ধী এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা হবে শক্তিশালী, স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল এবং মানবকল্যাণে অগ্রগণ্য।' তিনি রাজীব গান্ধীকে “আধুনিক ভারতের অন্যতম স্থপতি” বলেও উল্লেখ করেন।
কংগ্রেসের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেও জানানো হয়, আধুনিক, ক্ষমতায়িত ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের যে স্বপ্ন রাজীব গান্ধী দেখেছিলেন, তা আজও দলের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রী রাজীব গান্ধী জি-র মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।'
১৯৪৪ সালের ২০ আগস্ট মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন রাজীব গান্ধী। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১৯৮৯ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।