১২টি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করল ভারতদক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও সামরিক শক্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। বৈশ্বিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারত পরমাণু অস্ত্র শুধু মজুত করে রাখার পরিবর্তে সরাসরি সেগুলোকে কার্যকর করেছে।
এই তথ্য প্রকাশের পরপরই পাকিস্তান সরকার ও দেশের বিদেশ মন্ত্রক পক্ষ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিবৃতি এসেছে, যেখানে ইসলামাবাদ খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছে ভারতের পরমাণু শক্তি আন্তর্জাতিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি বড় ও প্রাণঘাতী হতে পারে।
ভারতের পরমাণু ত্রয়ী এবং 'ক্যানিস্টারাইজেশন' প্রযুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদ শঙ্কিত।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক বৃহস্পতিবার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে, তারা নয়াদিল্লির দ্রুত প্রসারিত কৌশলগত সক্ষমতা এবং পরিবর্তনশীল পরমাণু নীতির ওপর নজর রাখছে। পাকিস্তান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ক্যানিস্টারাইজেশন নিয়ে।
ক্যানিস্টারাইজেশন একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যেখানে পরমাণু ওয়ারহেডটি ক্ষেপণাস্ত্রের ভিতরে আগে থেকেই সিল করা থাকে, যাতে যুদ্ধ ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রটি খুব অল্প সময়ে এবং অত্যন্ত দ্রুত নিক্ষেপ করা যায়।
পরমাণু অস্ত্রে সক্ষম সাবমেরিনের মাধ্যমে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতার সম্প্রসারণ এবং দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ব্যবস্থা উন্নয়নকে পাকিস্তান তার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রথমবারের মতো পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন
প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য দিকটি হল, এই ১৯০টি ওয়ারহেডের মধ্যে ১২টিকে 'কার্যকরভাবে মোতায়েন' করা হয়েছে। এই প্রথম কোনও বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারতের পরমাণু অস্ত্রের একটি অংশকে শুধুমাত্র মজুত হিসেবে না দেখে, সম্পূর্ণরূপে কার্যকরভাবে মোতায়েন করা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
এই প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তান দাবি করেছে, স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—এই তিন দিক থেকেই পরমাণু হামলা চালানো ভারতের ‘অপারেশনাল রেডিয়েন্স’ অর্থাৎ যুদ্ধ প্রস্তুতিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
পাকিস্তান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছে এবং বিশ্ব শক্তিগুলোকে বিষয়টি আমলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও পরমাণু শক্তিতে শঙ্কিত হয়ে পাকিস্তান এখন বিশ্বের ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলোর কাছে আবেদন জানাতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে, বিশেষ করে ভারতকে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর কাছে, এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছে।
ইসলামাবাদের যুক্তি হল, ভারতের সামরিক শক্তি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণরূপে বিঘ্নিত করবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের এই বিবৃতিটি দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং প্রতিরক্ষা বাজেটে ভারতের তুলনায় ক্রমাগত পিছিয়ে থাকার কারণে সৃষ্ট হতাশারই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, ভারত তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি মেনে চলার মাধ্যমে নিজের সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করে চলেছে।