Bank Strike Salary Delay : পরপর ৫ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ, সময়ে স্যালারি না ঢোকার আশঙ্কা; বেতন কবে আসবে অ্যাকাউন্টে?

২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। তার আগে আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে বেতন এবার দেরিতে ঢুকতে পারে। কারণ, ব্যাঙ্কের কাজ বন্ধ থাকলে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না স্যালারি।

Advertisement
পরপর ৫ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ, সময়ে স্যালারি না ঢোকার আশঙ্কা; বেতন কবে আসবে অ্যাকাউন্টে? প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর- তিন দিন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে
  • তার জেরে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সমস্যার পরিধি আরও বাড়তে পারে

মাসের শেষে স্যালারি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা চাকরিজীবীদের জন্য বড় খবর। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে তিন দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। আর এই ধর্মঘটের সময়ই মাসের শেষ হওয়ায় বেতন জমা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক লেনদেন-সহ একাধিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বেতন অ্যাকাউন্টে ঢুকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন চিফ লেবার কমিশনার বা CLC।

ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের পরিকল্পনা এখনও বহাল রয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

সময়মতো বেতন অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তো?

২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ধর্মঘটের সঙ্গে মাসের শেষের সময়টা মিলে যাচ্ছে। এই সময়ে বহু সংস্থায় কর্মীদের বেতন অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। সাধারণত সংস্থা থেকে স্যালারি ট্রান্সফারের নির্দেশ দেওয়া হলেও ব্যাঙ্কের তা প্রসেস করতে দেরি হলে সংশ্লিষ্ট পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে স্যালারি অ্য়াকাউন্টে নাও ঢুকতে পারে। 

তবে এর অর্থ এই নয় যে সব কর্মীর বেতনই নির্দিষ্ট সময়ে আটকে যাবে। কোন ব্যাঙ্ক, কোন পদ্ধতিতে বেতন পাঠাচ্ছে এবং লেনদেনটি কখন প্রসেসিংয়ে যাচ্ছে, তার উপর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। ধর্মঘটের কারণে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হলে কিছু বেতন বা অন্যান্য লেনদেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন ৫ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে?

২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর- তিন দিন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তার জেরে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সমস্যার পরিধি আরও বাড়তে পারে। কারণ, ধর্মঘটের আগে রয়েছে সপ্তাহান্তের ছুটি। ফলে ধর্মঘট এবং তার আগের ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে মাসের শেষের সময়। মাসের শেষে সাধারণত বেতন জমা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কিং কাজের চাপ বাড়ে। পাশাপাশি এই সময় ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের কাজও চলে। ফলে ধর্মঘট হলে সাধারণ গ্রাহক থেকে ব্যবসায়ী- একাধিক ক্ষেত্রে পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

Advertisement

ব্যাঙ্কগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলছে কেন্দ্র

ধর্মঘটের সম্ভাবনা সামনে আসতেই ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সচল রাখতে প্রস্তুতি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির প্রধানদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

অর্থ দফতরের সচিবের নেতৃত্বে এই বৈঠক হওয়ার কথা। মূলত ধর্মঘটের সময় কীভাবে ব্যাঙ্কের পরিষেবা এবং জরুরি গ্রাহক পরিষেবা চালু রাখা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা।

প্রতিটি ব্যাঙ্কের বিকল্প ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, তাও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। লক্ষ্য, টানা কয়েক দিন ধরে পরিষেবা যাতে পুরোপুরি অচল না হয়ে যায়।

কী কী দাবি ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির?

এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইডেড ফোরামঅফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন বা UFBU। এই সংগঠনের দাবি, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাঙ্ককর্মী তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলির সঙ্গে যুক্ত। মোট সাতটি ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন এই ফোরামের অন্তর্ভুক্ত।

ইউনিয়নগুলির অন্যতম প্রধান দাবি হল ব্যাঙ্ককর্মীদের জন্য সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের ব্যবস্থা। অর্থাৎ শনিবার ও রবিবার- দুই দিন ছুটি দেওয়ার দাবি রয়েছে।

এছাড়াও ব্যাঙ্কের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কর্মীদের জন্য অভিন্ন ইনসেন্টিভ বা উৎসাহভাতা চালুর দাবি রয়েছে।  পেনশন সংক্রান্ত দাবিও রয়েছে। ইউনিয়নগুলির দাবি, পেনশন সুবিধার আপডেশন এবং উন্নতি করতে হবে।

আগেও ধর্মঘটে গিয়েছিলেন ব্যাঙ্ককর্মীরা

এটাই অবশ্য চলতি মাসে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির প্রথম ধর্মঘট নয়। গত ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে ধর্মঘট করেছিলেন ব্যাঙ্ককর্মীরা। এবার ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউনিয়নগুলি। ইউনিয়নগুলির তরফে জানানো হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মঙ্গলবারের বৈঠকে কী হবে?

এখন মূল নজর মঙ্গলবারের CLC-র ডাকা বৈঠকের দিকে। একদিকে ইউনিয়নগুলি ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রের তরফে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

মাসের শেষ, বেতন জমা, গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন এবং ব্যাঙ্কগুলির অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ের সঙ্গে ধর্মঘট মিলে যাওয়ায় পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয় কি না, নাকি ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘট নির্ধারিত সময়েই হবে- সেদিকেই এখন নজর ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের।
 

POST A COMMENT
Advertisement