কেন্দ্রের একাধিক 'আর্জি'তে কার্যত ‘লকডাউনে’র স্মৃতিই ফিরছে অনেকের মনে।India Fuel Crisis 2026: পেট্রোল-ডিজ়েলের ব্যবহার কমাতে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। সরকারি দফতরে ভার্চুয়াল বৈঠক, কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানো থেকে শুরু করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে জোর। কেন্দ্রের একাধিক 'আর্জি'তে কার্যত ‘লকডাউনে’র স্মৃতিই ফিরছে অনেকের মনে। যদিও কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে লকডাউনের মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিদেশী মুদ্রার ভান্ডার রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই অস্থিরতা বাড়ছে। হরমুজ় রুটে সমস্যা এখনও প্রায় আগের মতোই। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়ছে ভারতেও। পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই কেন্দ্রের তরফে জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সম্প্রতি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন। তার পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সরকারি ব্যাঙ্ক এবং দফতরগুলিতে ভার্চুয়াল বৈঠকের নির্দেশ। অর্থ মন্ত্রকের অধীন আর্থিক পরিষেবা বিভাগ সমস্ত সরকারি ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং সরকারি বিমা সংস্থাগুলিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করার পরামর্শ দিয়েছে। অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে সরাসরি বৈঠক এড়াতে বলা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াত কমবে এবং জ্বালানির খরচও বাঁচবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
শুধু তাই নয়, ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোমে’ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও একই পথে হাঁটার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই; রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং পেট্রোল-ডিজ়েলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সোনা কেনা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। ভারত বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি করে। ফলে প্রচুর ডলার খরচ হয়। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন বলে খবর। একই সঙ্গে বিদেশ সফর এবং পর্যটন নিয়েও সংযমের বার্তা দেওয়া হয়েছে। কারণ বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।
সরকারি স্তরেও ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। মন্ত্রী এবং আমলাদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানো হচ্ছে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লির মতো কয়েকটি রাজ্যে আগামী কয়েক মাস নতুন পেট্রোল, ডিজ়েল বা সিএনজি গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারি দফতরগুলিকে দ্রুত ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও বড় সরকারি অনুষ্ঠান এবং উৎসব স্থগিত বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে খবর। সাধারণ মানুষকেও ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো, বাস বা কারপুল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন ‘নো ভেহিকল ডে’ পালনের আবেদনও করা হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
তবে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত বাফার স্টক রয়েছে। তাই লকডাউনের মতো আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিকে করোনা অতিমারির সঙ্গে তুলনা না করারও বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সব সিদ্ধান্তেরই মূল লক্ষ্য একটাই। তা হল দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।