Science News: বড় খবর দিল ISRO, ২০২৬-এই মহাকাশে গগনযান পাঠাবে ভারত, প্রশংসা বিশ্বজুড়ে

ভারতের মহাকাশ গবেষণার শিরোপায় আরও এক পালক। গগনযান মিশনের প্রথম মনুষ্যহীন অভিযান চলতি বছরেই হতে চলেছে। মহাকাশে প্রথম মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো। শুক্রবার শ্রীহরিকোটায় GSLV-F17/EOS-05-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে।

Advertisement
বড় খবর দিল ISRO, ২০২৬-এই মহাকাশে গগনযান পাঠাবে ভারত, প্রশংসা বিশ্বজুড়েশুক্রবার শ্রীহরিকোটায় GSLV-F17/EOS-05-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে।
হাইলাইটস
  • ভারতের মহাকাশ গবেষণার শিরোপায় আরও এক পালক।
  • গগনযান মিশনের প্রথম মনুষ্যহীন অভিযান চলতি বছরেই হতে চলেছে।
  •  মহাকাশে প্রথম মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো।

ভারতের মহাকাশ গবেষণার শিরোপায় আরও এক পালক। গগনযান মিশনের প্রথম মনুষ্যহীন অভিযান চলতি বছরেই হতে চলেছে। মহাকাশে প্রথম মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো। শুক্রবার শ্রীহরিকোটায় GSLV-F17/EOS-05-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে। সেই খবর জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। তিনি জানিয়েছেন, গগনযানের প্রস্তুতির কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এই প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে কোনও মহাকাশচারী থাকবেন না। মানুষের বদলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করাই হবে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

গগনযানে আল্টিমেটলি মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত। এই প্রকল্পে ভারতীয় মহাকাশচারীদের পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে মহাকাশে পাঠানো হবে। নির্দিষ্ট সময় মহাকাশে থাকার পর তাঁদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করতে চাইছে ইসরো।

কেন প্রথমে মানুষ ছাড়াই গগনযান পাঠানো হচ্ছে?
Gaganyaan-G1 Launch campaign commences: Human Rated LVM3 assembly starts at  SDSC for the first un-crewed flight
মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের আগে সমস্ত ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রথমে মনুষ্যবিহীন গগনযান পাঠানো হবে। এই অভিযানে দেখা হবে রকেট ঠিক ভাবে উৎক্ষেপণ হচ্ছে কি না, মহাকাশে পৌঁছনোর পর ক্রু মডিউল ঠিক মতো কাজ করছে কি না এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেটি আবার পৃথিবীতে ফিরতে পারছে কি না।

অর্থাৎ, এই পরীক্ষামূলক অভিযানকে অনেকটা ‘ফাইনাল পরীক্ষার আগে মহড়া’ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনও সমস্যা ধরা পড়লে মহাকাশচারীদের পাঠানোর আগে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকবে ইসরোর হাতে।

শুধু মহাকাশে পৌঁছলেই হবে না
গগনযান মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির একটি হল মহাকাশচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। মহাকাশযানকে মহাকাশে পাঠানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকেও কম নয় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সেটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং সমুদ্রে অবতরণ করানো।

এই কাজের জন্য ক্রু মডিউলে বিশেষ প্যারাশুট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর প্যারাশুটের সাহায্যে মডিউলের গতি ধীরে ধীরে কমানো হবে। শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে নিরাপদে অবতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্যারাশুট ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক পরীক্ষা করেছে ইসরো। এবার মনুষ্যবিহীন গগনযান অভিযানে পুরো ব্যবস্থাটিকে একসঙ্গে পরীক্ষা করা হবে।

Advertisement

কী কী পরীক্ষা করবে ইসরো?
প্রথম মনুষ্যবিহীন অভিযানে রকেটের উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে মহাকাশে মডিউলের কাজ করা এবং শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসা ;প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হবে। উৎক্ষেপণের সময় রকেটের বিভিন্ন সিস্টেম ঠিক ভাবে কাজ করছে কি না, মহাকাশে পৌঁছে ক্রু মডিউল নির্দিষ্ট ভাবে কাজ করছে কি না, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মডিউল কতটা নিরাপদ থাকছে এবং সমুদ্রে অবতরণের পুরো প্রক্রিয়া ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন বিজ্ঞানীরা।

কোনও পর্যায়ে সামান্য ত্রুটি ধরা পড়লেও সেটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে ইসরোকে। কারণ, মানুষের প্রাণের ঝুঁকি নেওয়ার আগে প্রযুক্তিগত সমস্ত দুর্বলতা চিহ্নিত করে ঠিক করাই এই পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।

গগনযান ছাড়াও আরও ৬ উৎক্ষেপণ
ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, গগনযানের পাশাপাশি চলতি অর্থবর্ষে আরও ছ’টি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে NVS-03 নেভিগেশন স্যাটেলাইটও। অর্থাৎ, আগামী কয়েক মাস ইসরোর বেশ ব্যস্ততার মধ্যে কাটতে চলেছে।

এ দিন EOS-05 নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ইসরো চেয়ারম্যান। এই উপগ্রহকে ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ বলা হলেও সেই দাবি খারিজ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, EOS-05 আসলে একটি আর্থ অবজারভেশন বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ। পৃথিবীর ছবি এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করাই এর মূল কাজ। উপগ্রহটির কাজের মেয়াদ প্রায় ৯ বছর বলেও জানিয়েছেন তিনি।  

POST A COMMENT
Advertisement