Ghaziabad Korean Game: কোরিয়া প্রেমে 'পাগল' ছিল ৩ বোন, সুইসাইড কাণ্ডে নয়া ট্যুইস্ট

'কোরিয়ান লাভার' গেমের চ্যালেঞ্জের কারণে আত্মহত্যা করেননি ওই ৩ বোন! এমনটাই বলছেন গাজিয়াবাদের ঘটনার তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশের দাবি, মানসিক চাপে ভুগছিল ৩ নাবালিকা। কী কারণে মানসিক চাপে পড়েছিল তারা? জেনে নিন বিস্তারিত..

Advertisement
কোরিয়া প্রেমে 'পাগল' ছিল ৩ বোন, সুইসাইড কাণ্ডে নয়া ট্যুইস্টগাজিয়াবাদ কোরিয়ান গেম
হাইলাইটস
  • কোরিয়ান গেমের কারণে আত্মহত্যা নয়
  • তদন্তে উঠে এল নয়া টুইস্ট
  • ৩ বোনের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে কী বলছে পুলিশ?

বুধবার সকাল থেকে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে গাজিয়াবাদের ৩ নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনা। 'কোরিয়ান লাভার' নামে একটি অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে ৩ বোন চরম ছাদ থেকে ঝাঁপ মারে বলে জানা যায়। তবে পুলিশি তদন্তে এক নয়া টুইস্ট পেল এই ঘটনা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অনলাইন গেমের কাহিনি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, কোরিয়ান লাভার গেমের কারণে ৩ নাবালিকা আত্মহত্যা করেনি। বরং তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া এবং ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন করে রাখার কারণেই এই কাণ্ড। তবে ৩ বোনের উপর কোরিয়ান সংস্কৃতির গভীর প্রভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারীরা। 

'কোরিয়ান লাভার' গেমের কারণে আত্মহত্যা নয়?
পুলিশ আজ তককে জানিয়েছে, তদন্তে এখনও পর্যন্ত 'কোরিয়ান লাভার' গেমের আত্মহত্যার চ্যালেঞ্জের কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষা বা তাদের ডায়েরির পৃষ্ঠাগুলিতে এমন কোনও খেলা বা চ্যালেঞ্জের উল্লেখ নেই যা সরাসরি আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে। সূত্রের খবর, এটি কোনও অনলাইন গেমিংয়ের ঘটনা নয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। বরং ডিজিটাল সামগ্রীর প্রতি আসক্তি এবং হঠাৎ করে তা কেড়ে নেওয়ার কারণেই মানসিক প্রভাব থেকে হয়ে থাকতে পারে। 

৮ পাতার ডায়েরিতে কীসের ইঙ্গিত?
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ পাতার একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে। যা এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হিসেবে বিবেচিত। ২ মেয়ে ডায়েরিতে তাদের চিন্তাভাবনা লিখে রাখত। সূত্রের খবর, নাবালিকা ৩ জন স্পষ্ট ভাবেই লিখেছে, তারা কোরিয়ান সংস্কৃতির দ্বারা গভীর ভাবে প্রভাবিত। এর থেকে দূরে  থাকা তাদেক জন্য অসহনীয় হয়ে পড়ছে। ডায়েরিতে বারবার কোরিয়ান সংস্কৃতি, কে-পপ, কোরিয়ান সঙ্গীত, কোরিয়ান সিনেমা, কোরিয়ান শর্ট ফিল্ম, কোরিয়ান অনুষ্ঠান এবং কোরিয়ান সিরিজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক জায়গায় ইংরেজিতে লেখা আছে, 'উই লাভ কোরিয়ান কালচার।' পুলিশ বলছে, এটি কেবল পছন্দ বা শখ ছিল না। বরং ধীরে ধীরে এটি এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছিল। 

Advertisement

মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় উত্তেজনা?
তদন্তে জানা যায়, কিছুদিন আগে পরিবার মেয়েদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। মেয়েরা তাদের ডায়েরিতে এই বিষয়ে তাদের কষ্টের কথাও লিখে রেখেছিল। তারা উল্লেখ করেছিল, মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার কারণে তারা গভীর ভাবে কষ্টি পাচ্ছিল এবং একা অনুভব করছিল। সূত্রের খবর ওই ৩ বোন ডিজিটাল জগতে মানসিক সমর্থন খুঁজছিল। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তাদের পুরো পৃথিবী বাস্তব জগত থেকে আলাদা মনে হচ্ছিল। হঠাৎ চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কোরিয়ান সংস্কৃতি থেকে এই বিচ্ছিন্নতা সহ্য করতে পারছিল না তারা। 

পুলিশি তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কোরিয়ান বিষয়বস্তুর প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হয়েছিল তাদের। কোরিয়ান সিরিজ এবং গান তাদের জন্য কেবল বিনোদন ছিল না, বরং এক ধরনের মানসিক সংযোগে পরিণত হয়েছিল। যখন এই সংযোগ হঠাৎ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তারা শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করে। একজন তদন্তকারীর কথায়, এটি কোনও খেলার ঘটনা বলে মনে হয় না। বরং মানসিক নির্ভরতার ঘটনা, যেখানে মেয়েরা সম্পূর্ণ একা বোধ করতে শুরু করেছিল। 

করোনার পর স্কুলও বন্ধ 
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কোবিড-১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে ৩ জন নাবালিকা স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পুলিশ সবত্রে জানা গিয়েছে, পড়াশোনার সামর্থ্য এবং পরিবারের দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে মেয়েদের নিয়মিত পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্কুল থেকে তাদের দূরত্ব এবং সীমিত সামাজিক পরিসরের কারণে মেয়েদের জগৎ ধীরে ধীরে তাদের বাড়ি এবং মোবাইল ফোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা বলছেন, মেয়েরা খুব বেশি বাইরে বেরোত না এবং প্রায়শই তাদের ঘরে আটকে রাখা হত। 

ঘরের দেওয়ালের লেখায় কী ইঙ্গিত?
ঘরের নীরবতা এবং মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছবিগুলি অপরাধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেওয়ালে ইংরেজিতে লেখা ছিল, 'আমি সত্যিই খুব একা। আমার জীবন খুব একা।' পুলিশ বলছে, ই কথাগুলি নাবালিকাদের মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত। পুরো পরিবারের সঙ্গে থাকলেও তারা কেন একা বোধ করত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পারিবারিক জটিলতা
৩ নাবালিকার বাবা ২ বার বিয়ে করেছিলেন। দ্বিতীয় বিয়েটি তাঁর প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে ছিল। পরিবারে ২ স্ত্রী, ৫ সন্তান একসঙ্গে থাকত। আত্মঘাতী ৩ বোনের মধ্যে ২ জন দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে এবং একজন প্রথম পক্ষের। পারিবারিক পরিবেশ এবং মানসিক চাপের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

POST A COMMENT
Advertisement