Ghaziabad 3 Sister Suicide Update: অনলাইন গেম 'Korean Lover'-এর শেষ টাস্ক এটাই ছিল? সুইসাইড নোটে যা লিখেছে ৩ বোন

এর আগে মারণ খেলা ব্লু হোয়েল প্রাণ নিয়েছে একাধিক তরুণ ও কিশোরের। যা মূলত ডিপ ওয়েব গেম। যে সব কমবয়সী ছেলেমেয়েরা অবসাদে ভুগছে, তারাই আসক্ত হয়ে পড়ছে এই গেমে। এই গেমের ৫০টি ধাপ রয়েছে। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা চালিত হয় এই গেম। তাদের নির্দেশেই গেমের এক একটি নিয়ম মেনে চলেন অংশগ্রহণকারীরা। এবার ব্লু হোয়েলের স্মৃতি ফেরাল 'কোরিয়ান লাভার'। গাজিয়াবাদে একসঙ্গে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক বোন আত্মহত্যা করেছে। জানা যাচ্ছে এই মেয়েরা অনলাইনে কোরিয়ান গেম খেলতে আসক্ত ছিল।

Advertisement
অনলাইন গেম 'Korean Lover'-এর শেষ টাস্ক এটাই ছিল? সুইসাইড নোটে যা লিখেছে ৩ বোন ব্লু হোয়েলের স্মৃতি ফেরাল গাজিয়াবাদের ৩ বোন

এর আগে  মারণ খেলা ব্লু হোয়েল প্রাণ নিয়েছে একাধিক তরুণ ও কিশোরের। যা মূলত  ডিপ ওয়েব গেম। যে সব কমবয়সী ছেলেমেয়েরা অবসাদে ভুগছে, তারাই আসক্ত হয়ে পড়ছে এই গেমে। এই গেমের ৫০টি ধাপ রয়েছে। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা চালিত হয় এই গেম। তাদের নির্দেশেই গেমের এক একটি নিয়ম মেনে চলেন অংশগ্রহণকারীরা। এবার ব্লু হোয়েলের স্মৃতি ফেরাল 'কোরিয়ান লাভার'। গাজিয়াবাদে একসঙ্গে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক বোন আত্মহত্যা করেছে। জানা যাচ্ছে এই মেয়েরা অনলাইনে কোরিয়ান গেম খেলতে আসক্ত ছিল। 

গাজিয়াবাদে একটি বহুতলের নবম তলা থেকে লাফিয়ে তিন বোন আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে তিন বোন লিখেছে, 'দুঃখিত, মা, দুঃখিত, বাবা...'। বিষটি নিয়ে তিন বোনের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। বাবার মতে, মেয়েরা অনলাইনে কোরিয়ান গেম খেলতে আসক্ত ছিল, যা তিনি জানতেন না। মঙ্গলবার ছিল গেমের শেষ টাস্ক। শেষ কাজ শেষ করার পর, মেয়েরা নবম তলা থেকে লাফ দেয়। বাবার মতে, পুলিশ তদন্তের জন্য মেয়েদেক  ফোন জব্দ করেছে। গেমটিতে মোট ৫০টি টাস্ক ছিল। মেয়েরা লাফ দেওয়ার জন্য দুই ধাপের সিঁড়ি ব্যবহার করেছিল।

বাবা দুবার বিয়ে করেছেন
মাঝের বোন ছিল খেলার লিডার, সেই কমান্ড  নির্ধারণ করত। তারা তিনজন একসঙ্গে  প্রতিটি কাজ করত। সন্দেহ করা হচ্ছে যে বহুতল থেকে লাফানোও একটি টাস্ক ছিল। তবে, তিন বোন যে এমন একটি খেলা খেলেছিল তা কখনও কারও কাছে প্রকাশ করা করেনি।

জানা যাচ্ছে, মেয়েদের বাবা দু'বার বিয়ে করেন।  প্রথম বিয়ে থেকে সন্তান না হওয়ায়, তিনি শালীকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে থেকে তার তিনটি সন্তান হয়। এই সময়ের মধ্যে, তার প্রথম স্ত্রীর দুটি সন্তানও হয়। আত্মহত্যাকারী তিন বোনের মধ্যে দুজন ছিল তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে, আর একজন ছিল তার প্রথম স্ত্রীর মেয়ে। দুই স্ত্রী এবং সন্তানরা একসঙ্গে থাকত। তথ্য অনুসারে, তিন মেয়ে গত দুই বছর ধরে স্কুলে যাচ্ছিল না।

Advertisement

তিন মেয়ের বয়স ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর
আত্মহত্যা করা তিন মেয়ে হল  নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২)। তিনজনই রাত আড়াইটায় বহুতলের নবম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গাজিয়াবাদের টিলা মোড় থানা এলাকার ভারত সিটিতে। পুলিশ জানিয়েছে যে, রাত ২:১৫ নাগাদ, পিআরভি খবর পায় যে, টিলা মোড থানায় অবস্থিত ভারত সিটির ৯০৭ নম্বর ফ্ল্যাটের টাওয়ার বি-১-এর নবম তলা থেকে তিনজন মেয়ে লাফিয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তদন্তের পর, তিন মেয়েকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে লোনির ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তিন মেয়েকেই মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ বর্তমানে মামলার পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

পুলিশ তদন্তে জানা গেছে যে ঘটনার আগে রাত ২টার দিকে তিন বোন তাদের ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিল। এরপর তারা একটি টুল বেধে বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনকে লোনির একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ৮ পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পকেট ডায়েরি উদ্ধার করেছে, যাতে আট পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট ছিল। নোটে তিন বোন তাদের গেমিং এবং অন্যান্য মোবাইল কার্যকলাপের কথা উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে যে তারা গেমিং ভালোবাসে এবং এটি ছেড়ে দিতে পারবে না। নোটটি শেষ হয়েছে, 'সরি, মা, সরি, বাবা...।' পুলিশের মতে, খেলায় মাঝি বোন প্রাচী বসের ভূমিকায় অভিনয় করছিল। তিন বোন তাদের দৈনন্দিন সমস্ত কাজ একসঙ্গে করত, যার মধ্যে খাবার খাওয়াও ছিল।

'Sorry, papa. I am feeling very, very alone ' - উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে  নবম তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করার আগে তিন বোনের শেষ কথা ছিল এটাই। তিন বোনের  ঘরে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে  কান্নার ইমোজি ছিল, যাতে লেখা ছিল, 'ট্রু লাইফ স্টোরি। ইস ডায়েরি মে জো কুছ ভি লিখা হ্যায়, ওহ সব পড় লো, কিউঙ্কি ইয়ে সব সচ হ্যায় । (এই ডায়েরিতে যা দেখছো, সবকিছু পড়ো, কারণ সবকিছুই সত্যি,  এখনই পড়ো! আমি সত্যিই দুঃখিত, দুঃখিত বাবা। '

POST A COMMENT
Advertisement