Ghaziabad 3 Sisters Suicide: 'তোমরা বুঝবে না কে-পপ আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ,' ৩ বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম মনে করত গাজিয়াবাদের ৩ বোন। তাদের লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে। পুলিশককে ভাবাচ্ছে কোন কোন তথ্য?

Advertisement
'তোমরা বুঝবে না কে-পপ আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ,' ৩ বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
হাইলাইটস
  • কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা
  • গাজিয়াবাদের ঘটনায় উদ্ধার ৩ বোনের সুইসাইড নোট
  • কী বললেন ৩ নাবালিকার বাবা?

গাজিয়াবাদের ভারত সিটি সোসাইটিতে ৩ বোনের আত্মহত্যার মামলায় তদন্ত এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। বরং তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই রহস্য আরও জটিল হয়ে উঠছে। 

বুধবার ভোরে নবম তলা থেকে লাফিয়ে পড়া ১৬, ১৪ এবং ১২ বছর বয়সী ২ বোনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রথমে অনলাইন গেমিং আসক্তিকে সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পুলিশি তদন্ত, পরিবারের বিবৃতি এবং ঘটনাস্থলে নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে ঘটনাটি সমাধানের পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে উঠছে। 

লাফ দেওয়ার পদ্ধতি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে অবাক করা সত্যটি হল, ৩ বোন একসঙ্গে ঝাঁপ দেয়নি। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, দুই বোন একে অপরের হাত ধরে বারান্দা থেকে একসঙ্গে লাফিয়ে পড়েছিল। তৃতীয় বোন প্রার্থনা কক্ষের জানালা দিয়ে আলাদা ভাবে ঝাঁপ দেয়। এই ঘটনাটি অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যদি এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয় তাহলে কেন ৩ জন একই জায়গা থেকে লাফ দেয়নি? 

পরিবারের লোকেরা কেন টের পেলেন না?
ওই ৩ নাবালিকার বাবা চেতন কুমারের দাবি, ঘটনার সময়ে পরিবারের সকলেই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। তিনি পুলিশকে বলেন, 'আমার স্ত্রী ভিতরের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। পুরো বাড়ি শান্ত ছিল। মেয়েরা জল খাওয়ার অজুহাতে উঠে পড়ে। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং বারান্দা থেকে লাফ দেয়।' মানসিক ভাবে একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত পৌঁছেছিল মেয়েরা, নাকি এটি মুহূর্তে ঘটেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। 

৩ বোনের মাসিও ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন
তদন্তের সময়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাচ্ছে, ঘটনার রাতে উভয় স্ত্রীর ছোট বোনও ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন। এর স্পষ্ট অর্থ, সেই রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়িতে আরও একটি সদস্য ছিলেন। যদিও পুলিশ বর্তমানে এই বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করছে না। তবে প্রশ্ন উঠছে। সেই রাতে কোনও কথাবার্তা মেয়েদের মানসিক অবস্থা উপর প্রভাব ফেলেছিল কি না। কেউ কি এমন কিছু বলেছিল বা শুনেছিল যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়? নাবালিকাদের মা এবং মাসিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে খবর। 

Advertisement

বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। মেজ বোন নিজেকে 'বস' মনে করত। সে জানিয়েছিল, তার বোনেরা তার কথা মেনে চলে। ৩ বোন প্রায় সবকিছুই একসঙ্গে করত, খাওয়া, স্নান, মোবাইল ফোনের ব্যবহার এমনকী দীর্ঘ সময় ধরে একই ঘরে থাকা। পুলিশের সন্দেহ, মানসিক নির্ভরশীলতা এতটাই গভীর ছিল, তাদের একজনের সিদ্ধান্ত অন্য দু'জনকে একই দিকে ঠেলে দিচ্ছে। 

২ বছর ধরে স্কুলে যায়নি বোনেরা
তদন্তে আরও জানা যায়নি, ৩ বোন প্রায় ২ বছর ধরে স্কুলে যাচ্ছিল না। ধারাবাহিক ভাবে পিছিয়ে পড়া, পড়াশোনায় ব্যর্থ হওয়ার কারণে তারা সমাজ এবং বন্ধুদের থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। তারা তাদের দিনের বেশিরভাগ সময় নিজেদের ঘরে মোবাইল ফোন নিয়ে কাটাত। কার্যত বাইরে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা কিংবা অন্য কোনও কার্যকলাপেই অংশ নিত না। পুলিশের সন্দেহ এই কারণেই তারা বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

অনলাইন গেম
পুলিশ এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ৩ বোন 'কোরিয়ান লাভার' নামে একটি টাস্ক ভিত্তিক ইন্টাব়্যাক্টিভ গেমের সঙ্গে জড়িত। এই গেমে কমান্ডগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 

কে-পপের প্রতি ভালোবাসা
নাবালিকা ৩ বোনের বাবার দাবি, 'ওরা প্রায়শই কোরিয়া যাওয়ার কথা বলত। নিজেদের কোরিয়ান প্রিন্সেস বলে দাবি করত। সাধারণ আগ্রহ ভেবে উড়িয়ে দিয়েছিলাম।' তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, সমস্যাটি কেবল গেমে সীমাবদ্ধ ছিল না। একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে। যেখানে লেখা রয়েছে, 'সরি, তবে আমরা কোরিয়ান পপ মিউজিক খুব ভালোবাসি। হয়তো তোমরা বোঝোনি এটা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটা আমাদের জীবনের খুব বড় একটা বিষয়। অভিনেতাদের সঙ্গেও আমরা দৃঢ় সংযোগ অনুভব করি। অন্য যে কোনও বিষয়ের থেকে, এই দুনিয়ার থেকে কোরিয়ান পপ জগৎ আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'

মোবাইল ফোনের কল লগ, চ্যাট হিস্ট্রি এবং সর্বোপরি ডায়েরি এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। DGP রাজীব কৃষ্ণ স্পষ্ট ভাবে জানাচ্ছেন, মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চান না তারা। 

 

POST A COMMENT
Advertisement