প্রতীকী ছবি বিখ্যাত সংস্থা নেসলের কিছু শিশু খাদ্য প্রোডাক্টে সম্ভাব্য বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে কয়েকটি ব্যাচ তুলে নেওয়া হচ্ছে। বেবি ফুড এবং দুধের প্রোডাক্ট রয়েছে এই ব্যাচে।
৬ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সুইৎজারল্যান্ড ভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, তাদের Simulated Milk Adapted (SMA) ইনফ্যান্ট ফর্মুলা এবং ফলো-অন ফর্মুলার নির্দিষ্ট কিছু ব্যাচ শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাচগুলিতে cereulide নামের একটি টক্সিন থাকতে পারে, যা খেলে বমি বমি ভাব তৈরি হয়। ফুড পয়েডনিংয়ের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এখনও পর্যন্ত ৩১টি দেশে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি সহ ইউরোপের বহু দেশ রয়েছে। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ৩ দেশ এবং এশিয়ার হংকং অন্তর্ভূক্ত।
ভারত বর্তমানে এই তালিকায় নেই। তবে নেসলে জানিয়েছে, তদন্ত চলতে থাকায় ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকা আপডেট হতে থাকছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি থেকে নেসলে তাদের যে প্রোডাক্টগুলি তুলে নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে SMA, BEBA এবং NAN। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট ব্যাচ নম্বরও প্রকাশ করেছে।
ভারতে নেসলে বেবি ফুডে একটি বড় নাম। এখানে তারা NAN PRO এবং Lactogen Pro-এর মতো পণ্য বিক্রি করে, যা নবজাতক থেকে শুরু করে টডলারদের জন্য ব্যবহৃত হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতে এই পণ্যগুলি তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ফুড পয়েজনিংয়ের নেপথ্যে কী কারণ?
নেসলের দাবি অনুযায়ী, বাজার থেকে তাদের নির্দিষ্ট কিছু প্রোডাক্ট তুলে নেওয়ার কারণ হল, একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে গুণগত সমস্যা, যা একটি বড় সরবরাহকারী সংস্থা থেকে এসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই পণ্যগুলির থেকে নিশ্চিত ভাবে কোনও প্রমাণ মেলেনি। যে টক্সিনটির উপস্থিতি সন্দেহ করা হচ্ছে, সেটি cereulide। এটি Bacillus cereus নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে উৎপন্ন হয়, যা সাধারণত মাটিতে পাওয়া যায়। এই টক্সিন খাদ্যবাহিত অসুস্থতার কারণ হতে পারে এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল এটি তাপ-সহনশীল। অর্থাৎ খাবার ফুটিয়ে বা গরম করেও একে নষ্ট করা যায় না।
নেসলের মতে, ফুড পয়েজনিংয়ের উৎস হতে পারে arachidonic acid (ARA) তেল। এটি শিশু খাদ্যে যোগ করা হয় মায়ের দুধে থাকা প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের অনুকরণ করতে। ARA শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিশুরা নিজেরা পর্যাপ্ত পরিমাণে এটি তৈরি করতে পারে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট তেল সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং মূল কারণ খুঁজে বের করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
cereulide-এর প্রভাব
চিকিৎসকদের মতে, cereulide বিশেষ করে শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। গুরগাঁওয়ের পারাস হেলথের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাকেশ তিওয়ারি জানান, এই পণ্যগুলি খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুর তীব্র বমি, খাওয়ায় অনীহা এবং ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। যেহেতু শিশুর লিভার ও স্নায়ুতন্ত্র এখনও পুরোপুরি বিকশিত নয়, তাই এই টক্সিনের সংস্পর্শে এলে আরও গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, বিপাকীয় গোলযোগ এবং বিরল ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতি।বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই টক্সিন তাপ সহনশীল হওয়ায় সাধারণ রান্না বা প্রস্তুত প্রণালিতে এর ঝুঁকি কমে না। তাই যেখানে এখনও বাজার থেকে নেসলের এই পণ্যগুলি তুলে নেওয়া হয়নি সেখানেও বেবি ফুড তৈরিতে কঠোর পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা এবং প্রস্তুতের পরই খাবার খাওয়ানো জরুরি।