মধ্যমণি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।SIR 2026: একসঙ্গে, হাসিমুখে ৩ নির্বাচন কমিশনার। মিটিং সেরেছেন। মধ্যমণি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনই 'ঐক্যবদ্ধ' ছবি পোস্ট করল নির্বাচন কমিশন। বৈঠকের বিষয়বস্তুও উল্লেখযোগ্য। SIR।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। যাঁরা একটু-আধটু খবর পড়েন, তাঁদের অজানা নয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। উক্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বাকি দুই কমিশনারের মতবিরোধ হয়েছে। SIR সংক্রান্ত বিষয়ও তার মধ্যে রয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় তোলে বিরোধী দলগুলি। ইতিমধ্যেই অনেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনও শুরু করেছে। এহেন আবহে নির্বাচন কমিশনের এই ছবি পোস্ট নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
আলোচনায় SIR, BLO
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এদিনের মিটিংয়ে SIR-এর কাজ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে কোনও ব্যক্তিকে ‘unmapped’ বা নথির সঙ্গে তথ্যের মিল না থাকা এবং ‘logical discrepancy’-র কারণে নোটিস দেওয়া হলে তাঁকে শুনানির জন্য বারবার নির্বাচন দফতরের অফিসে যেতে হবে না। এবার প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে সেই ব্যক্তিরই বাড়িতে যাবেন BLO (Booth Level Officer)।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন BLO। সেই নথি পরে ECINet পোর্টালে আপলোড করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ERO (Electoral Registration Officer) নথি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। অর্থাৎ নথি জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারকে সব ক্ষেত্রে ERO বা AERO অফিসে হাজির হতে হবে না।
বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ করবেন BLO
SIR চলাকালীন ভোটার তালিকায় কোনও নাম নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিস পাঠানো হতে পারে। সেই নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে BLO-রা বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন।
এর ফলে বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা যাঁদের পক্ষে সরকারি অফিসে গিয়ে নথি জমা দেওয়া কঠিন, তাঁদের সুবিধা হবে।
কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, এই ধরনের ব্যক্তিদের ERO বা AERO অফিসে শুনানির জন্য ডাকা হবে না। তবে কোনও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে ERO শুনানির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের অফিসে ডেকে আনা হবে।
প্রয়োজন হলে অনলাইনেই শুনানি
বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানি করতে হলে তা সম্ভব হলে অনলাইনে করার কথাও বলা হয়েছে।
শুনানিতে সবক্ষেত্রে ভোটারের নিজে উপস্থিত হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। কোনও প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যকে নিজের হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন ভোটার। ফলে পরিবারের কোনও সদস্য অ্যাটেন্ড করলেই হবে।
গরিব, শ্রমিক, গৃহহীনদের জন্য বিশেষ শিবির
SIR প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও মানুষ পিছিয়ে না পড়েন, সে জন্য জেলা স্তরেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। DEO (District Election Officer)-দের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা কেন্দ্র বা বিশেষ শিবির আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে রাতের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ, শ্রমিক, গরিব, গৃহহীনদের জন্য এই ধরনের শিবির করা হবে। সেখানে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
দিল্লিতে SIR-এর সময়সীমা বাড়ল
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অনুরোধের পর ক্লেইম-ডিসপুট জানানোর সময়সীমা ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নোটিস, ক্লেইম এবং সমাধানের সময়সীমাও বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সময়সীমায় পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ দিন ১২ অক্টোবর ২০২৬। আর নোটিস, দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ নভেম্বর ২০২৬ করা হয়েছে।