Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশ কুমারকে হঠানো সম্ভব? সহজ ভাষায় বুঝুন পুরো প্রসেসটা

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধীরা। তাঁকে অপসারণের জন্য শুরু হয়েছে প্রস্তুতিও। কিন্তু জ্ঞানেশকে অপসারণ করা কতটা সহজ, পুরো প্রক্রিয়াটা জানুন।

Advertisement
জ্ঞানেশ কুমারকে হঠানো সম্ভব? সহজ ভাষায় বুঝুন পুরো প্রসেসটা জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করতে পারে বিরোধীরা
হাইলাইটস
  • জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধীরা।
  • তাঁকে অপসারণের জন্য শুরু হয়েছে প্রস্তুতিও।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি করেছেন বিরোধী নেতানেত্রীরা। ককরোচ জনতা পার্টি সময় বেঁধে দিয়েছে। সংসদের প্রস্তাবিত বিশেষ অধিবেশনের আগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। সত্যিই কি জ্ঞানেশকে সরানো যাবে? আর সেটা কতটা সহজ? বুঝুন পুরো প্রক্রিয়া। 
 
সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা যদি লোকসভা ও রাজ্যসভায় জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয়, তা হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে? কতটা দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে সেই প্রক্রিয়া? এক্ষেত্রে সংবিধানেই বা কী বলছে?

কীভাবে সরানো যাবে জ্ঞানেশকে?

সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যেভাবে পদ থেকে সরানো যায়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও একই ধরনের প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা সম্ভব। তবে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ প্রয়োজন। তাঁদের রাষ্ট্রপতিই পদ থেকে অপসারণ করতে পারেন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রথমে লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ দিতে হয়। লোকসভায় সেই নোটিশে অন্তত ১০০ জন সাংসদের এবং রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সাংসদের সই প্রয়োজন। নোটিশটি গ্রহণ করা হবে কিনা, তা নির্ধারণ করেন লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। অভিযোগের ভিত্তি এবং তথ্য খতিয়ে দেখে নোটিশ গ্রহণ করা হলে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কীভাবে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি?

লোকসভা এবং রাজ্যসভায় একই দিনে নোটিশ দেওয়া হলে, দুই কক্ষেই তা গ্রহণ করার পর গঠন করা হয় কমিটি। আর যদি দুই কক্ষে আলাদা দিনে নোটিশ জমা পড়ে, তাহলে যে কক্ষে আগে প্রস্তাব আসে, সেখানেই পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হয়। লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান মিলিতভাবে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে থাকেন ভারতের প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতি, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং একজন বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ।

Advertisement

কমিটি তদন্ত করে অভিযোগগুলি সত্য বলে মনে করলে যুক্তিসঙ্গত রিপোর্ট তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কক্ষে পেশ করে। এরপর সেই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। প্রয়োজন হলে অভিযুক্ত নির্বাচন কমিশনারকে সংসদে ডেকে সদস্যেরা তাঁর কাছে প্রশ্নও করতে পারেন। এরপর হয় ভোটাভুটি। দুই কক্ষেই প্রস্তাবটি বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাশ হলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।

প্রণিধানযোগ্য, ভারতে এখনও পর্যন্ত কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পদ থেকে অপসারণ করা হয়নি।

জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে আগেও নোটিশ

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে এর আগেও নোটিশ দিয়েছিল বিরোধীরা। ২০২৬ সালের মার্চে লোকসভা ও রাজ্যসভায় যথাক্রমে ১৩০ এবং ৬৩ জন সাংসদের সই-সহ নোটিশ জমা পড়েছিল। পরে ৬ এপ্রিল সেই নোটিশ খারিজ হয়ে যায়। এরপর রাজ্যসভায় ৭৩ জন সাংসদের সই-সহ আরও একটি নোটিশ দেওয়া হয়। সেটি এখনও ঝুলে। এবার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে তৃতীয় নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির।

ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া ব্লকের একটি বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তাব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর। বৈঠকে থাকবেন মমতা এবং অভিষেকও। 
 

POST A COMMENT
Advertisement