উত্তর ভারতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।-ফাইল ছবিদীর্ঘদিন বৃষ্টির ঘাটতিতে ভোগা দেশের বহু অঞ্চলে এবার সক্রিয় হতে চলেছে বর্ষা। আবহাওয়াবিদদের মতে, নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছে সক্রিয় হওয়া বিএসআইএসও (Boreal Summer Intraseasonal Oscillation) এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ ব্যবস্থার যৌথ প্রভাবে আগামী ২০ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর, পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমটি হল বিএসআইএসও, যা এখন অনুকূল বা ধনাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দ্বিতীয়টি হল বঙ্গোপসাগরে রসবি তরঙ্গের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ব্যবস্থা। এই দুইয়ের প্রভাবে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে উত্তর ও পূর্ব ভারতের দিকে প্রচুর জলীয় বাষ্প টেনে আনছে।
আবহাওয়া দফতর এবং বিভিন্ন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকেই উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। রবিবার ও সোমবারের মধ্যে সেই বৃষ্টির প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পাঞ্জাব, চণ্ডীগড়, দিল্লি, হরিয়ানা এবং পূর্ব রাজস্থানেও।
১৯ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরাখণ্ডে ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার, উত্তরপ্রদেশে ২০০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরে ১৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। পাঞ্জাব ও চণ্ডীগড়ে ১০০ থেকে ২০০ মিলিমিটার, হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এবং পূর্ব রাজস্থানে ৭৫ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এই বৃষ্টি উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বস্তি আনলেও পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তাই ওই সব এলাকায় ভ্রমণকারীদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের আবহাওয়ায় এখন স্পষ্ট উত্তর-দক্ষিণ বিভাজনের ছবি দেখা যাচ্ছে। ইউরোপীয় আবহাওয়া মডেল ইসিএমডব্লিউএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত উত্তর ও পূর্ব ভারতে বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলেও পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বহু এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি থাকতে পারে। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং কর্ণাটকে এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলগুলিতে খরার পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে।
ভারতের কৃষি ও অর্থনীতি অনেকটাই বর্ষার উপর নির্ভরশীল। জুন ও জুলাইয়ের প্রথমার্ধে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় খরিফ চাষে প্রভাব পড়েছিল। তাই নতুন করে বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় কৃষকদের স্বস্তি মিললেও, অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিও মাথায় রাখতে হবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বিএসআইএসও এবং বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ব্যবস্থা যদি আগামী কয়েক দিন সক্রিয় থাকে, তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ ভারত এবং পশ্চিম উপকূলেও বৃষ্টির পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিচু এলাকায় জল জমা এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। কৃষকদেরও ভারী বৃষ্টির পরে জমিতে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের আবহাওয়াই চলতি বর্ষা মরশুমের সামগ্রিক চিত্র অনেকটাই নির্ধারণ করবে।