অযোধ্যা এক্সপ্রেসের শৌচাগারে লেখা “চারবাগ স্টেশনে উড়িয়ে দেব” ঘিরে বোমাতঙ্কশুক্রবার সন্ধ্যায় অযোধ্যা এক্সপ্রেস (14205) ট্রেনে বোমার হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ট্রেনের শৌচাগারের দেয়ালে লেখা ছিল—"এই ট্রেনকে লখনউ চারবাগ স্টেশনে বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে। দয়া করে এটিকে মিথ্যে মনে করবেন না, পুলিশকে জানান বা ১৩৯ নম্বরে ফোন করুন। নাহলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যাবে। আমার বন্ধু, দয়া করে সাহায্য করো! বোমা রাখা আছে S-4/S-5 কামরার ব্যাগে।" হুমকির নীচে লেখা ছিল— “আবদুল আনসারি (সন্ত্রাসবাদী), মুরাদাবাদ”।
এই বার্তা দেখে এক যাত্রী সঙ্গে সঙ্গেই রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন। এরপরেই পুরো ট্রেনজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে, যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
বারাবंকি স্টেশনে জরুরি তদন্ত
বোমাতঙ্কের খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ট্রেনটি বারাবंকি স্টেশনে থামানো হয় এবং সমস্ত যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। জিআরপি (গৃহ রক্ষা পুলিশ), আরপিএফ (রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী), স্থানীয় পুলিশ ও বোম্ব স্কোয়াডের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা পুলিশ সুপার (SP) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM)-সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোটা ট্রেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
বোমার অস্তিত্ব মেলেনি, ছিল শুধুই মিথ্যা আতঙ্ক
দীর্ঘ তদন্তের পর জানা যায়, এটি নিছকই এক দুষ্টুমি বা গুজব ছড়ানোর প্রচেষ্টা ছিল। ট্রেনে কোথাও কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ ট্রেনটি আটকে রাখা হয়। সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর রাত ৯:২৫-এ ট্রেনটিকে পুনরায় যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, এটি ভোর ৪:২০-এ পুরান দিল্লি পৌঁছানোর কথা।
বাতাসে আতঙ্ক, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত
এমন একটি ঘটনা কেবল যাত্রীদের আতঙ্কিত করে তোলে না, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তার দিক থেকেও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে। যদিও এটি নিছকই মিথ্যা হুমকি ছিল, তবুও ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।