ভারতীয় নোটে খালি গান্ধী কেন, জানুন।ভারতের নোটে থাকে গান্ধীর ছবি। কিন্তু ভারতীয় নোটে গান্ধীর ছবি সবসময় ছিল না। স্বাধীনতার পর ধাপে ধাপে বদলেছে টাকার নকশা। সেই পরিবর্তনেরই একটি পর্যায়ে ভারতীয় নোটে জায়গা করে নেন গান্ধী। স্বাধীনতার পর ভারতীয় নোটে কী ছিল? কীভাবে এলেন গান্ধী? কেন শুধু গান্ধীর ছবিই রাখার সিদ্ধান্ত?
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পরও প্রথম দিকে দেশের নোটে ব্রিটিশ রাজা ষষ্ঠ জর্জের ছবি ব্যবহার করা হত। পরে স্বাধীন ভারতের পরিচয়কে তুলে ধরতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোটের নকশায় পরিবর্তন আনে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিকৃতির বদলে ভারতীয় নোটে প্রধান প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নেয় সারনাথের অশোকস্তম্ভের সিংহমূর্তি। ১৯৫০ সালে এই সিংহমূর্তিই ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে মান্যতা পায়।
ভারতীয় নোটে প্রথম কবে গান্ধীর ছবি?
স্বাধীনতার পরপরই ভারতীয় নোটে মুখ হয়ে ওঠেননি মহাত্মা গান্ধী। ১৯৬৯ সালে প্রথম ভারতীয় নোটে তাঁর ছবি দেখা গিয়েছিল। গান্ধীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সে বছর আরবিআই একটি স্মারক নোটের সিরিজ প্রকাশ করেছিল। সেই নোটে গান্ধীর সঙ্গে ছিল সেবাগ্রাম আশ্রমের ছবিও। তার পরেও ভারতীয় মুদ্রায় গান্ধীর ছবি স্থায়ী জায়গায় পায়নি।
১৯৮৭ সালে আরবিআই নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু করে। সেই নোটে ছিল মহাত্মা গান্ধীর ছবি। ভারতীয় নোটের নকশায় গান্ধীর প্রতিকৃতি স্থায়ী জায়গা পায়। তবে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৬ সালে। সে বছর আরবিআই মহাত্মা গান্ধী সিরিজ চালু করে। এরপর থেকে ভারতীয় নোটের সামনের দিকে গান্ধীর প্রতিকৃতি ব্যবহার শুরু হয়। এর ফলে সামনের অংশের প্রধান প্রতীক হিসেবে এত দিন ব্যবহৃত অশোকস্তম্ভের সিংহমূর্তির জায়গা নেয় গান্ধীর ছবি।
কোন ছবি থেকে নেওয়া হয়েছিল গান্ধীর প্রতিকৃতি?
ভারতীয় নোটে যে গান্ধীর ছবি দেখা যায়, সেটি কোনও শিল্পীর আঁকা প্রতিকৃতি নয়। ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে তোলা একটি ছবি থেকে এই প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছিল। ছবিতে গান্ধীর পাশে ছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড পেথিক লরেন্স। নোটের নকশা নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনায় বলা হয়েছে, ছবিটিকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল গান্ধীর স্বাভাবিক এবং সহজে চেনা যায় এমন ভঙ্গি। পরে সেই ছবিকে নোটে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়।
কেন গান্ধীকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল?
গান্ধীকে ভারতীয় নোটে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে আরবিআইয়ের কোনও একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। স্বাধীনতার পর ভারতের জাতীয় প্রতীক এবং পরিচয় খোঁজার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।