কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড।-ফাইল ছবিপুনের ২৪ বছরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় আবারও সামনে এল পরিবারের অসহনীয় যন্ত্রণার ছবি। ছেলের মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল আবেগঘন বার্তায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই ১৭ দিনের মধ্যে তাঁর বাবারও মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ছেলের মৃত্যুর ধাক্কা সহ্য করতে না পেরেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিশাল আগরওয়াল বলেন, ১৮ জুন ২০২৬ তাঁর পরিবারের জীবনে এক অন্ধকার দিন হয়ে এসেছে। ছেলের মৃত্যুর পর পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছিল। সেই শোকের মধ্যেই মাত্র ১৭ দিন পর তাঁর বাবার মৃত্যু তাঁদের আরও বড় আঘাত দেয়।
তিনি বলেন, 'প্রত্যেক বাবা চান ছেলের বিয়ে দেখতে, তাকে সুখী সংসার করতে দেখতে। কিন্তু আমার ভাগ্যে জুটল ছেলের শবযাত্রায় কাঁধ দেওয়া। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই বাবাকেও হারালাম। এই যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।'
কেতনের বাবা জানিয়েছেন, পুলিশের তদন্ত এবং বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি তদন্ত নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলতে চান না। তবে তাঁর একমাত্র আবেদন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর মামলাটি যেন ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচার হয়, যাতে দোষীরা দ্রুত এবং কঠোরতম শাস্তি পায়।
তিনি জানান, এই আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান না, শুধু নিরপেক্ষ বিচার এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি চান।
বিশাল আগরওয়াল বিয়ের মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আত্মীয় নরেন্দ্র জগন্নাথ মিত্তল এবং তাঁর স্ত্রী রেনু মিত্তল এই বিয়ের সম্বন্ধ করেছিলেন। তাঁরা মেয়েটিকে অত্যন্ত ভদ্র ও সংস্কৃতিবান বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এবং নিজের মেয়ের মতো দেখার অনুরোধ করেছিলেন। সেই বিশ্বাস থেকেই পরিবার বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিল।
তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলেও, সত্য সামনে আনতে পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তের উপরই ভরসা রাখছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, তদন্তের স্বার্থে নরেন্দ্র জগন্নাথ মিত্তল এবং রেনু মিত্তলকেও নিরপেক্ষভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, যাতে তাঁদের কাছে থাকা প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলছেন না। তদন্তে যার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, আইন অনুযায়ী তারই শাস্তি হওয়া উচিত। সমাজের প্রতিও আবেদন জানিয়েছেন কেতনের বাবা। তিনি বলেন, 'যেভাবে মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ন্যায়বিচারের লড়াইয়েও সেই সমর্থন যেন বজায় থাকে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর কোনও পরিবারের জীবনে না আসে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই সম্পর্ক যদি কারও পছন্দ না-ই হতো, তা হলে বিয়ে ভেঙে দেওয়া যেত। কিন্তু একজন নিরীহ যুবকের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।'
উল্লেখ্য, ১৮ জুন ২০২৬ পুনে জেলার লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের সময় একটি খাদে পড়ে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, তদন্তে পুলিশ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে।
পুলিশের অভিযোগ, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে পাহাড়ের খাদে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেন। তদন্তের ভিত্তিতে ২৩ জুন ২০২৬ সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে দু'জনেই পুনের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। মামলার তদন্ত এখনও চলছে।
বিশাল আগরওয়ালের একটাই দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে তাঁর ছেলে ন্যায়বিচার পায় এবং ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবারকে এমন শোকের মুখোমুখি হতে না হয়।