বাব রামদেব'গত ৫০ বছরে একবারও অসুস্থ হইনি।' এমনই দাবি করলেন যোগগুরু বাবা রামদেব। ইন্ডিয়া টুডে হেলথ ওয়েলথ সামিট ২০২৬-এ নিজের সুস্থ থাকার রহস্য, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং জীবনযাপন নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। একইসঙ্গে খাবারে ভেজাল, কৃত্রিম উপাদানের ব্যবহার এবং কম বয়সীদের মধ্যে বিভিন্ন লাইফস্টাইলজনিত রোগের বাড়বাড়ন্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যোগগুরু। জানান নিজের দৈনন্দিন রুটিনের কথা। রামদেবের দাবি, নিয়মিত যোগব্যায়াম, শরীরচর্চা এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।
২৫ বছর ধরে ব্রেকফাস্ট করেন না বাবা রামদেব
নিজের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বাবা রামদেব জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি সকালের জলখাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন দিনে মাত্র একবারই খাবার খান তিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ ঘি খান রামদেব। তারপর এক চিমটি নুন মেশানো গরম জল পান করেন। দুপুর বা দিনের প্রধান খাবারে থাকে মিলেট, সবুজ শাকসব্জি এবং অন্যান্য খাবার। মূল খাবার খাওয়ার আগে স্যালাড ও ফল খান তিনি। সূর্যাস্তের আগেই সন্ধ্যার মধ্যে খাওয়া শেষ করে ফেলেন।
শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, তাঁর প্রতিদিনের শরীরচর্চার রুটিনও বেশ নিয়মমাফিক করেন। রামদেব জানিয়েছেন, ভোর ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা প্রার্থনা ও ধ্যান করেন। তারপর ২০ থেকে ৩০ মিনিট দৌড়ন। নিজের দৌড়নোর ক্ষমতা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমি ঘোড়ার মতো জোরে দৌড়ই।' রামদেবের দাবি, গত ৫ দশকে প্রায় ৫০ লক্ষ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে একবারও অসুস্থ হননি, ফুড পয়জনিং হয়নি কিংবা হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল বাবা রামদেবের একটি ভিডিও। সেখানে একটি সাদা ঘোড়ার পাশে দৌড়তে দেখা গিয়েছিল যোগগুরুকে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিওটি শেয়ার করেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে পতঞ্জলির স্বর্ণ শিলাজিৎ এবং ইমিউনোগ্রিট গোল্ডের প্রচারও করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এই পণ্যগুলি শারীরিক শক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং বার্ধক্যের প্রভাব মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।
খাবারে ভেজাল ও কৃত্রিম উপাদান নিয়ে উদ্বেগ
সামিটে খাবারে ভেজাল এবং কৃত্রিম উপাদানের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাবা রামদেব। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে কৃত্রিম ওষুধ, ভেজাল খাবার, দূষণ এবং বিকিরণের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশের পরিবর্তনের কারণেও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
রামদেবের কথায়, বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও হাঁটু ও কোমরে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
যোগ ও আয়ুর্বেদেই মিলবে সমাধান?
স্বাস্থ্য ভাল রাখতে যোগব্যায়াম, আয়ুর্বেদ এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেন যোগগুরু। তাঁর দাবি, এই পদ্ধতিগুলি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা এবং কোলেস্টেরলের মতো শারীরিক সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। এমনকী, হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লকেজের বিষয়েও নিজের এই পদ্ধতিগুলির উপকারিতার কথা তুলে ধরেন তিনি। রামদেবের আরও দাবি, খাবারের প্রতি সচেতনতা এবং নিয়মিত যোগব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ৯৯ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তবে এগুলি মূলত বাবা রামদেবের নিজস্ব মতামত ও দাবি। এগুলিকে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাবিজ্ঞানের সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লকেজের মতো রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ, যথাযথ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। যোগব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এগুলিকে রোগ সারানোর বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না।
সবশেষে সুস্থ শরীর ও শান্ত মনের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন বাবা রামদেব। তাঁর বক্তব্য, শুধু অসুস্থ হলে চিকিৎসা করলেই হবে না, প্রতিদিনের জীবনযাপনে কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, কতটা শরীরচর্চা করছেন এবং কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন, তার উপরেও সুস্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে।