
বর্ষার ঘাটতি কমছেচলতি বছরে গোটা দেশেই ধীরে ব্যাটিং শুরু করেছিল বর্ষা। যদিও এখন পরিস্থিতি একবারে বদলে গিয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি বৃষ্টি হয়েছে দেশে। এমনটাই জানিয়েছে আইএমডি।
এই বিষয়ে আইএমডির লেটেস্ট আপডেট বলছে, ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে মোট ৫৩.৩ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যেখানে এই সময়ের স্বাভাবিক বৃষ্টির গড় হল ৪৮ মিমি। অর্থাৎ বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। আর সেই খবর পেয়েই চাঙ্গা ভারতের শেয়ারবাজারও।
ইসরোর ইনস্যাট-৩ডিএস উপগ্রহের ছবিতেও বর্ষার এই নয়া ট্রেন্ডের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ঘন মেঘের স্তর প্রায় গোটা দেশকে ঢেকে ফেলেছে। আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর এবং হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত একাধিক সক্রিয় আবহাওয়া সিস্টেমের প্রভাব রয়েছে। যার জেরে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিম ভারতে সক্রিয় মৌসুমি নিম্নচাপ অক্ষরেখা, একটি মনসুন ট্রু সাইক্লোন এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ, এই তিনটি আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবেই বর্ষা নতুন করে শক্তি বাড়িয়েছে। যার ফলে দেশের একাধিক জায়গায় বৃষ্টি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইএমডি সতর্ক করেছে, আগামী ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওড়িশা, ছত্তীসগড় এবং পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশ করায় পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ও দিকে মুম্বইতে টানা কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সকালে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। তবে দুপুরের পর বৃষ্টির তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
দেশের পশ্চিমাংশে মনসুন ট্রু সাইক্লোন-এর প্রভাবে রয়েছে। যার জেরে ব্যাপক বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ভারতে বিস্তৃত সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টিতে সাহায্য করছে।
প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে গুজরাত, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
তবে উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে এখনও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। যদিও আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান সক্রিয় মনসুন সিস্টেম বজায় থাকলে সেই ঘাটতি দ্রুত কমে আসতে পারে। তাই চিন্তার কিছু নেই।