Modi Jinping Meeting: মোদী-জিনপিং বৈঠকের পর প্রকাশ্যে মতান্তর, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিবৃতিতে কী ফারাক?

৭ বছর পর ভারতে এসেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন। কিন্তু সেই বৈঠকের পর দুই দেশের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতেই ফারাক দেখা গেল। কী মূল পার্থক্য রয়েছে দুই দেশের বিবৃতিতে?

Advertisement
মোদী-জিনপিং বৈঠকের পর প্রকাশ্যে মতান্তর, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিবৃতিতে কী ফারাক?প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-শি জিনপিং
হাইলাইটস
  • ৭ বছর পর ভারতে শি জিনপিং
  • মোদীর সঙ্গে করলেন বৈঠক
  • বৈঠকের পর জারি বিবৃতিতে বড় ফারাক

গালওয়ানের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারতে প্রথম পা রেখেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। BRICS সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। এই বৈঠকের আগেই অবশ্য চিনের পক্ষ থেকে একটি বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, 'মতপার্থক্য হতেই পারে। কিন্তু মতান্তর যেন মনান্তরে পরিণত না হয়।' প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শনিবারের বৈঠকের পর বাস্তবেই দেখা হল সেই মতান্তর। দুই দেশের প্রকাশিত বিবৃতিতে ভারত-চিন সম্পর্ক এবং সীমান্ত সমস্যাকে কীভাবে দেখা হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফারাক সামনে এসেছে। দুই দেশের বিবৃতিতেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলা হলেও, কোন বিষয়টির অগ্রাধিকার আগে, সেই জায়গাতেই মূল পার্থক্য। তবে সেই পার্থক্য বিরোধে পরিণত হবে না বলেই আশাবাদী কূটনৈতিকরা। 

৭ বছর পর ভারতে শি জিনপিং
২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর সীমান্ত উত্তেজনার আবহে ভারত-চিন সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ৪ জন সদস্য নিহত হন। এরপর শনিবার ৭ বছর পর ভারত সফরে দিল্লিতে পৌঁছন শি জিনপিং।

এই পরিস্থিতিতে মোদী-শি বৈঠকের পর প্রকাশিত দুই দেশের বিবৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চিনের বক্তব্য কী?
চিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশকে একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের দিকে এগোতে হবে। অর্থাৎ, দুই ক্ষেত্রেই একইসঙ্গে অগ্রগতি চেয়েছে বেজিং। চিনের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের উচিত দুই ক্ষেত্রে 'parallel, mutually reinforcing progress' বা সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতির পথে এগোনো। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।

চিনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে থাকা অস্বস্তির বিষয়গুলি দূর করতে হবে। দুই পক্ষকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।

Advertisement

ভারতের বক্তব্যে জোর কোথায়?
ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে কিছুটা অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করে বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক। মোদী দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত চুক্তি ও বোঝাপড়াগুলি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন।

ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই সমাধানের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

কোথায় মূল ফারাক?
দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে মূল পার্থক্যটি হল অগ্রগতির ক্রমে। চিনের বক্তব্যে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত সমস্যা, দুই ক্ষেত্রেই সমান্তরালভাবে এগিয়ে যাওয়ার ধারণা রয়েছে। অর্থাৎ, সীমান্ত সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান না হলেও দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থাকে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থাৎ, ভারতের অবস্থান মূলত সীমান্ত পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে এবং সীমান্ত সংক্রান্ত চুক্তি ও বোঝাপড়াগুলি মেনে চলতে হবে। এটাই নয়াদিল্লির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

২০২০ সালের গালওয়ানের পর এই ফারাক গুরুত্বপূর্ণ
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ ভারত-চিন সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এরপর থেকেই ভারত বলে আসছে, সীমান্তের পরিস্থিতিকে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।

চিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবশ্য এমন একটি সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে সীমান্ত সমস্যার সমাধান এখনও না হলেও দুই দেশের বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে।

ফলে মোদী-শি বৈঠকের পর দুই দেশের বিবৃতিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি থাকলেও, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে কোনটি ভিত্তি এবং কোনটি সমান্তরালে এগোবে, সেই জায়গাতেই ভারত ও চিনের অবস্থানের ফারাক স্পষ্ট।

 

POST A COMMENT
Advertisement