ইন্ডিয়া ব্লকের মিটিংদীর্ঘদিন বাদে দিল্লিতে বসছে INDIA জোটের বৈঠক। ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের পর বসতে চলা এই বৈঠক বেশ খানিকটা ছন্নছাড়া। AAP এবং DMK ইতিমধ্যেই জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। TMC-র পরস্থিতি নড়বড়ে। এ মতো অবস্থায়, শক্তি প্রদর্শন তো দূরের কথা, আঞ্চলিক রাজনীতিতেও যে এই বিরোধী দলগুলি তাদের পায়ের তলায় জমি হারিয়েছে, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তার প্রমাণ, একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া কংগ্রেসের, শেষ রাজ্য হিসেবে কেরলম থেকেও বাম সরকারের পতন।
জানা গিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে ২৩টি দলের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে বৈঠকে। INDIA জোটে TVK-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য থাকা বাঞ্ছনীয়, এমনটাই জানিয়েছে হাত শিবির।
কংগ্রেসের সঙ্গে একের পর এক দলের দূরত্বই INDIA ব্লককে নড়বড়ে করে তুলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্প্রতি DMK-র সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তামিলনাড়ুতে নির্বাচনের পর জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসে TVK-র হাত ধরে কংগ্রেস। সে কারণেই তাদের বিশ্বাসঘাতক তকমা দিয়ে INDIA ব্লকে থাকতে রাজি নয় স্ট্যালিনের দল। আম আদমি পার্টিও কংগ্রেসের সঙ্গে বনিবনা রাখেনি। আগেই INDIA থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল তারা। অন্যদিকে, কেরলমের ভোট নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ প্রকট হয়েছে CPIM-এর। বৈঠক এড়িয়ে না গেলেও প্রতিনিধি পাঠানো স্রেফ নামমাত্র।
এদিকে, তৃণমূলের অবস্থা তথৈবচ। ভোটে পরাজয়ের আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়ের পরে কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে BJP-র বিরুদ্ধে জোট বাঁধার জন্য আহ্বান জানান।
আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের সঙ্গে শরিকদের দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকট হয়েছে। ৫ রাজ্যের ভোটের আগে যে মমতা ও স্ট্যালিন বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে উঠে এসেছিসেন তাঁরা পরাজিত হওয়ার পর কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। ফলত এই বৈঠক আদৌ কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেটা নিয়েই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে।