INDIA ব্লকের বৈঠকে মমতা, সোনিয়া, খাড়গে, রাহুল ও অন্যান্যরা'আমরা এককাট্টা।' এই বার্তা দিয়েই সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করলেন INDIA ব্লকের নেতারা। দেশজুড়ে ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশনকে মোদী-শাহের পুতুলের মতো নাচানোর অভিযোগ তুলে সরব হলেন মমতা, রাহুল, খাড়গেরা। একইসঙ্গে আগামী ২ মাস জুড়ে নেওয়া একগুচ্ছ কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হল বুধবার দুপুরে। যদিও ঠারেঠোরে কংগ্রেস সভাপতি বুঝিয়ে দিলেন, রাহুল গান্ধী বহু আগে থেকে যে সমস্ত অভিযোগ তুলছিলেন, তা অনেকেই তখন পাত্তা দেয়নি। এখন দিনের আলোর মতো সবটা প্রকাশ্যে আসায় রাহুলের কথাই মানতে হচ্ছে সকলকে।
এদিন মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, 'সকলে একজোট হয়ে লড়াই করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন, যেমন রাহুল এবং মমতাজি এবং বাকি দলের নেতারা। এই সমস্ত পরামর্শ একত্রিত করে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নেওয়া কর্মসূচিগুলি তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে পুতুলের মতো ব্যবহার করেন মোদী-শাহ। গুটি হিসেবে ২-৩ জনকে সামনে সাজিয়ে রেখেছেন ওঁরা। আসলে ওঁরাই ভোট চুরি করিয়ে জিতছেন। আমাদের নেতারা, যাঁরা ন্যায়বিচারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য লড়ছেন, তাঁদের ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।'
কী করা উচিত, কী করব? এই নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি কর্মসূচিগুলি এক এক করে সংবাদমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করেন।
১) দেশের মানুষ, যুব সম্প্রদায় এবং গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাস রাখা NGO ও অন্যান্য সংগঠনগুলিকে লড়াইতে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে INDIA জোট। ২-৮ অক্টোবর জেলাভিত্তিক সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ করবে তারা।
২) ৬ অক্টোবর সমস্ত বিরোধী সাংসদ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত অভিযান করবেন।
৩) বিরোধী সাংসদরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সময় চাইবেন। ভোট চুরির সরকার কীভাবে গণতন্ত্র নষ্ট করছে তা রাষ্ট্রপতিকে জানানো হবে।
৪) ৫টি বড় ব়্যালি করবে INDIA জোটের সমস্ত বিরোধী দলগুলি। যৌথ ভাবে হবে এই কর্মসূচি। কীভাবে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে ভোট চুরি করছে BJP, তা মানুষকে বোঝানো হবে বলে জানান খাড়গে। সময় এবং তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে। তবে অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যেই হবে ব়্যালিগুলি।
৫) ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বড় ব়্যালি হবে।
৬) সুপ্রিম কোর্টে SIR নিয়ে যা যা মামলা রয়েছে তা খারিজ করে দেওয়ার আর্জি রাখবে INDIA জোট।
এরপরই মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, 'রাহুল গান্ধী আগেই এই অভিযোগগুলি করেছিলেন, কিন্তু অনেকেই প্রথমে তা মানেননি, পাত্তা দেননি। এখন কমিশনের লোকেরাই যখন প্রকাশ্যে সব তথ্য এনে ফেলেছে, তখন সকলে বুঝতে পারছেন রাহুল সত্যিই ঠিক বলেছিলেন। মমতা দিদিও আগে এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বাংলা সহ সমস্ত রাজ্যে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে সরব হন। তিনি বলেন, 'ভোটচুরির যে কথা রাহুল-তেজস্বী বিহারে বলেছিল, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানাতেও বলেছিল, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। এমনকী ২০২৪-এও ভোটচুরি করেই এরা জিতেছিল। বাংলাতেও ভোট লুট করেছে। আমি সুপ্রিম কোর্ট সহ সমস্ত দরজায় কড়া নেড়েছিলাম। ভ্যানিশ কুমার চোর, ভোটচুরি করেছেন, EVM জ্বালিয়েছেন। অবিলম্বে ওঁর পদত্যাগ চাই। এটা আমাদের গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াই। পদত্যাগ না করলে এই আন্দোলন আমরা অনেকদূর নিয়ে যাব। প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও পিছু হটব না।'
সবশেষে রাহুল গান্ধী বলেন, 'বিরোধীরা সফল। নতুন প্রজন্ম বুঝে গিয়েছে, দেশে যা হচ্ছে তা গণতন্ত্রের জন্য সঠিক নয়। আমরা আত্মবিশ্বাসী, আগামী কয়েক মাসে দেশে বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হব।'