PoK অশান্তিতে মুখ খুলল ভারতপাকিস্তানে চলা অশান্তিতে মুখ খুলল ভারত। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের চরম বর্বরতার খবর পাওয়া গেছে। যাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। ভারতের দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে পাকিস্তানকে তাদের অপকর্ম ও নির্যাতনের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ভারতের অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য পাকিস্তান ভুয়ো খবর ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। রাওয়ালকোটে বিক্ষোভকারীদের ওপর হিংসা দমন-পীড়নের কয়েকদিন পরেও সেখানে উত্তেজনা চরমে রয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত "পাকিস্তান থেকে আসা ভুয়ো খবর ও ভিডিওর একটি ধারা" লক্ষ্য করেছে। এটি তাদের ব্যর্থতা ঢাকার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।
তিনি আরও বলেন, "আমরা পাকিস্তান থেকে আসা ভুয়ো খবর ও ভিডিওর একটি ধারা দেখতে পাচ্ছি। পাকিস্তানের মরিয়া প্রচেষ্টা, যাতে তারা নিজেদের ব্যর্থতা লুকোতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে মনোযোগ অন্যত্র সরাতে চাইছে।"
বিদেশ মন্ত্রক মুখপাত্র পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের কথিত বর্বরতার প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছেন। দাবি করেছেন, সম্প্রতি বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, "পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের গুরুতর বর্বরতার খবর পাওয়া গেছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানকে তার অপকর্ম ও বাড়াবাড়ির জন্য জবাবদিহি করবে।"
রাওয়ালকোটে বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের কয়েকদিন পর এই বিবৃতিগুলো এসেছে, যাতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও সরকারি পরিসংখ্যানে মৃতের সংখ্যা ২৭ বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তবে, এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী গোষ্ঠীগুলো সংগঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলে উত্তেজনা রয়েছে। Pok-র বিক্ষোভকারীদের প্রস্তাবিত ‘লং মার্চ’ আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এক বিক্ষোভকারীর শেষকৃত্যে সমবেত মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে। এই হামলায় ২৭ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ৯ জুনের বনধ এবং এই অঞ্চলে বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পর, জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএসি) পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।
জেএএসি-এর মতে, শাহজেব হাবিব নামের এক বিক্ষোভকারীর জানাজা উপলক্ষে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তান রেঞ্জার্সের গুলিতে শাহজেব হাবিব নিহত হয়েছেন। তার জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে হিংসার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।