বর্ষার ঘাটতিজুলাই মাসের ১১ তারিখ আজ। খাতায় কলমে ভরা বর্ষার সময়। এমনকী ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে পৌঁছে গিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুও। তবুও ১৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এমনটাই জানাল আইএমডি।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এখন গোটা দেশজুড়েই পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু তারপরও ঘাটতি মিটছে না।
বর্ষা তার মৌসুমি যাত্রা সম্পূর্ণ করলেও, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়েছে। আর সেটাই চিন্তার বিষয়।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
তবে গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় জুন মাসের শেষে প্রায় ৪০ শতাংশ যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। এর ফলে যেই সব জায়গায় খরা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেই এলাকাগুলিও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
আইএমডির বিজ্ঞানী শশী কান্ত সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেন, '১ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এখনও যেসব এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি রয়েছে, সেগুলি হল পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পঞ্জাব, মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চল, কেরল এবং কর্নাটকের কিছু অংশ।'
জুলাই মাসে বর্ষা কেমন?
আইএমডি আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল, জুলাই মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ে বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড় বা লং পিরিয়ড এভারেজে ৯৪ শতাংশ হতে পারে। এই গড় হিসেব করা হয়েছে ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে।
সাধারণত দেশে বর্ষাকালের মোট বৃষ্টির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুলাই মাসেই হয়। তাই এই মাসে এহেন বৃষ্টির ঘাটতি কৃষির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনকী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা, অর্থাৎ নিম্নচাপের সেই বিস্তৃত অঞ্চল যা আর্দ্র বায়ু টেনে এনে বৃষ্টিপাত ঘটায়, সেটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে সরে যাচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে দেশের কোন কোন অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি হবে, সেই দিকটাতেও পরিবর্তন হতে পারে।
জুলাইতে অবশ্য ভাল বৃষ্টি হয়েছে
আসলে জুলাইয়ের শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছে। শুষ্ক জুনের পর মাসের প্রথম দিকেই একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
মুম্বইয়ে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে শহরের জলাধারগুলিতে জলের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। যার ফলে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে জলাধারগুলির ধারণক্ষমতা ১০ শতাংশেরও কম থেকে বেড়ে প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই কারণে জলসঙ্কটের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মধ্য ও পশ্চিম ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলেও দেশের সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতি কমেছে।
তবে বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশ সহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে এখনও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব কৃষিক্ষেত্রেও পড়ছে।
বিশেষজ্ঞের মতে, বর্ষার এই অসম বণ্টন খুব অস্বাভাবিক নয়। মৌসুমি বায়ুর গতিপথ বদলানোর সময় এমন পরিস্থিতি প্রায়ই দেখা যায়।
বর্ষা কেমন হবে?
আইএমডির বিজ্ঞানী শশী কান্ত জানান, মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তর দিকে সরে গিয়েছে। এর প্রভাবে চলতি সপ্তাহে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি জুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রবল বৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, দিল্লিতে আগামী কয়েক দিনে তুলনামূলকভাবে হালকা বৃষ্টি। আবার কিছুটা শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। একইসঙ্গে মধ্য ভারত এবং দক্ষিণ উপদ্বীপীয় ভারতের বেশ কিছু এলাকায় বর্ষার দাপট কিছুটা কম থাকতে পারে।
যদিও দেশের বৃষ্টির ঘাটতি আগের তুলনায় কমেছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা জল সংরক্ষণের উপর জোর দিচ্ছেন।