India Heatwave: বিশ্বের ১০০ উষ্ণতম শহরের মধ্যে ৯৮-ই ভারতে! এমন অবস্থা কেন?

India Heatwave 2026: এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাস। গ্রীষ্মের শুরুতেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়েছে ভারত। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে বিশ্বের ১০০টি সবচেয়ে উষ্ণ শহরের মধ্যে ৯৮টিই ছিল ভারতের।

Advertisement
বিশ্বের ১০০ উষ্ণতম শহরের মধ্যে ৯৮-ই ভারতে! এমন অবস্থা কেন?বিশ্বের ১০০টি সবচেয়ে উষ্ণ শহরের মধ্যে ৯৮টিই ছিল ভারতের।
হাইলাইটস
  • এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাস।
  • ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়েছে ভারত।
  • বিশ্বের ১০০টি সবচেয়ে উষ্ণ শহরের মধ্যে ৯৮টিই ছিল ভারতের।

India Heatwave 2026: এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাস। গ্রীষ্মের শুরুতেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়েছে ভারত। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে বিশ্বের ১০০টি সবচেয়ে উষ্ণ শহরের মধ্যে ৯৮টিই ছিল ভারতের। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ গরম হিসেবে উড়িয়ে দিলে ভুল করবেন। আসলে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।

চলতি বছরের তাপপ্রবাহে দেশের একাধিক রাজ্যে তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ওড়িশার বলাঙ্গিরে পারদ পৌঁছে যায় ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেই সময় বিশ্বের সবচেয়ে গরম শহরের তালিকায় কার্যত একচেটিয়া আধিপত্য ছিল ভারতের।

শুধু ভারত নয়, একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছে। ফ্রান্সে মৃত্যুরও খবর পাওয়া যায়। লন্ডনে রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নীচে নামেনি। স্কটল্যান্ডে দাবানলের ঘটনাও সামনে আসে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়। বরং বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

কেন এত ভয়াবহ তাপপ্রবাহ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার উপর দীর্ঘ সময় ধরে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় স্থির হয়ে ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মেঘ তৈরি কম হয়, বৃষ্টির সম্ভাবনা হ্রাস পায় এবং ভূমির কাছাকাছি গরম বাতাস আটকে যায়। ফলে দিনের পর দিন তাপমাত্রা বাড়তেই থাকে।

তবে আবহাওয়ার এই তাৎক্ষণিক কারণের পিছনে রয়েছে আরও বড় একটি বাস্তবতা। নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের ডিরেক্টর গ্যাভিন স্মিডের মতে, উনিশ শতকের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। মাত্র ১৫০ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটেছে, যা পৃথিবীর দীর্ঘ জলবায়ু ইতিহাসে অত্যন্ত দ্রুত।

শুধু গরম নয়, প্রাণঘাতী বিপদ
তাপমাত্রার পাশাপাশি আর্দ্রতাও বড় ভূমিকা নেয়। মানুষের শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম সহজে শুকোয় না। ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং অন্যান্য গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

Advertisement

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই তাপপ্রবাহে ভারত ও পাকিস্তানে মিলিয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

চাপে বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো
অতিরিক্ত গরমের জেরে এয়ার কন্ডিশনার ও কুলারের ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা নতুন রেকর্ড গড়ে। ২১ মে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা পৌঁছয় ২৭০.৮ গিগাওয়াটে।

একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। জলসংকটের খবরও আসে বিভিন্ন শহর থেকে। রাজস্থানে গবাদি পশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দিল্লির কিছু রাস্তায় পিচের উপরিভাগের তাপমাত্রা ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছয় বলে জানা গিয়েছে।

ভবিষ্যত কী?
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং আগামী দশকগুলিতে আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে পৃথিবীর গড় উষ্ণায়ন প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ প্রায় পাঁচ বছরে এক বার দেখা যায়। কিন্তু বর্তমান গতিতে উষ্ণায়ন বাড়তে থাকলে শতাব্দীর শেষে সেই ব্যবধান কমে দুই থেকে তিন বছরে নেমে আসতে পারে। 

POST A COMMENT
Advertisement