'সুপার এল নিনো'র পূর্বাভাসবিশ্বের উষ্ণতম দেশগুলির একটি হয়ে উঠছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের সর্বাধিক উষ্ণতম ১০০টি শহরের মধ্যে ৯৫টিই ভারতে অবস্থিত! মে মাসের গরম এখন অনুভূত হচ্ছে এপ্রিল মাসেই। উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে এপ্রিলে তাপমাত্রা ৪২-৪৫ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
এমন তাপমাত্রা সাধারণত দেশে মে বা জুন মাসে দেখা যায়। কিন্তু এবার তা অনেক আগেই শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বায়ুর চাপের পরিবর্তনের কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। IMD-র তরফেও সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ওয়েদার ম্য়াপেও ভারতকে হিটওয়েভে-র ক্ষেত্রে রেড দেখানো হয়েছে।
সুপার এল নিনো কি আসতে চলেছে?
বিভিন্ন আবহাওয়ার মডেলগুলো থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে, ২০২৬ সালের পরবর্তী মাসগুলোতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ কেউ একে সুপার এল নিনো বা গডজিলা এল নিনো বলেও নাম দিচ্ছেন। UK-এর আবহাওয়াবিদ অ্যাডাম স্কেইফ দাবি করেছেন, গত এক মাসে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা এমন হারে বেড়েছে যা এই শতাব্দীতে আগে কখনোই দেখা যায়নি।
ওয়ার্ল্ড মেট্রোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন WMO-এর তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে একটি এল নিনো প্রভাব শুরু হতে পারে। পরবর্তীতে সময়ে সময়ে এটি আরও শক্তিশালী হতে থাকবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বর্তমানে গড়ের কাছাকাছি থাকলেও, অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলো ইতিমধ্যেই উষ্ণ হয়ে উঠেছে, যা এল নিনো প্রভাবের একটি প্রধান সূচক।
এল নিনো কী এবং এর বৈজ্ঞানিক কারণগুলো কী?
এল নিনো এবং লা নিনো হল পৃথিবীর দুটি বৃহত্তম জলবায়ু তরঙ্গ যাকে বিজ্ঞানীরা ENSO (এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন) বলে থাকেন। মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জল স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হয়ে উঠলে এল নিনো ঘটে।
সাধারণত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঠান্ডা জল উপরে ওঠে এবং বাতাস পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। কিন্তু এল নিনোর সময়, বাতাস দুর্বল হয়ে পড়ে বা এর দিক উল্টে যায়। উষ্ণ জল ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন করে দেয়।
এল নিনো-র প্রভাব কী হতে পারে?
এল নিনো বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায়। এর বৈজ্ঞানিক কারণ হল, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জল শক্তি বৃদ্ধি করে, যা বায়ুপ্রবাহ এবং আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা হয়, আবার অন্য কিছু এলাকায় খরা দেখা দেয়। এর সাধারণ প্রভাবগুলো হল: দক্ষিণ দক্ষিণ আমেরিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি।
এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। তাপও বৃদ্ধি পায় কারণ এল নিনো পুরো পৃথিবীকে উষ্ণ করে তোলে।
ভারতে কী প্রভাব হতে পারে?
এই সুপার এল নিনো ঘটলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হয়ে পড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে দক্ষিণ এশিয়ায় খরার সম্ভাবনা বাড়বে। উত্তর ও পূর্ব ভারত ইতিমধ্যেই তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন, এবং এল নিনো এই পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরা দেখা দেবে, অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকা ও পূর্ব আফ্রিকায় বন্যা হতে পারে।