তৃতীয় পরমাণু সাবমেরিন নামাচ্ছে নৌসেনাভারত মহাসাগরে চিনের যাবতীয় দাদাগিরি এবার শেষ হওয়ার পথে। কারণ শীঘ্রই ভারতীয় নৌসেনা হাতে পাচ্ছে আরও একটি পরমাণু ক্ষমতা সম্পন্ন সাবমেরিন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই 'আরিধমান' নামের এই সাবমেরিনটি সমুদ্রে ভাসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত মহাসাগরে যেভাবে চিন শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে, তার জবাব হতে পারে ভারতের এই নয়া অস্ত্র। তবে ভারতের কাছে আরও দুটি পরমাণু শক্তিধর ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ রয়েছে। সেগুলি হল ‘অরিহন্ত’ ও ‘অরিঘাত’। সূত্রের দাবি, আগামী এপ্রিল-মে মাস নাগাদই এই সাবমেরিনটি জলে নামতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত বছর এই সময়ই 'অপারেশন সিঁদুর' চালানো হয়েছিল। কার্যত সেই অপারেশনের এক বছরের মাথায় এই ভয়ঙ্কর অস্ত্রটি হাতে পাচ্ছে নৌসেনা।
'আরিধমান' ডুবোজাহাজটি বিশাখাপত্তনমের জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে তৈরি করা হয়েছে। এই সাবমেরিনে রয়েছে ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কে-১৫ এবং অনির্দিষ্ট সংখ্যক কে-৪ পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল। যার পাল্লা ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। দীর্ঘ পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রসম্ভার ভারতের রণনীতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে প্রথম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছিল এই সাবমেরিনটির কাজ দ্রুত বেগে এগোচ্ছে। এরপর জানা যায়, ডুবোজাহাজটি কমিশনিংয়ের পথে রয়েছে। অবশেষে জানা গেল আরিধমান (S4) এখন সমুদ্র পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে। পাশাপাশি, এই মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্রটিতে যাবতীয় অস্ত্র লোডিং ও সিস্টেম চেকিংও প্রায় শেষের পথে।
কেন পারমাণবিক হামলায় সক্ষম ডুবোজাহাজগুলির গুরুত্ব অপরিসীম?
আধুনিক রণকৌশল বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, পরমাণু শক্তিধর দেশগুলি যদি একে অপরকে আক্রমণ করে, সেক্ষেত্রে প্রথম হামলা চালানো দেশটির প্রাথমিক টার্গেট থাকে বিপক্ষের সব পারমাণবিক সেন্টার ও অস্ত্রগুলিকে নষ্ট করে দেওয়া। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটি আর পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালাত না পারে। স্থলভাগে যে সব পরমাণু পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলিতে প্রতিপক্ষ হামলা চালাতে সক্ষম হলেও সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা ডুবোজাহাজে থাকা পরমাণু অস্ত্রের ক্ষতি করা সম্ভব হয় না। ফলে এই ধরনের ডুবোজাহাজগুলির গুরুত্ব রয়েছে অপরিসীম।
নৌবাহিনী সূত্রে খবর, আরিধমান-এর সব পরীক্ষা সফল ভাবে হয়ে গেলে আগামী গরমের মরশুমের শুরুর দিকেই এই ডুবোজাহাজটি ভারত মহাসাগরের জলের তলায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে মোতায়েন থাকতে পারে। ফলে একদিকে যেমন ভারতের জলসীমার নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে, তেমনই হামলায় সক্ষম হওয়ায় নৌসেনার আক্রমণাত্মক ক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।