আরও ৫টি S-400 মিসাইল কিনছে ভারতএ বার কি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতও? অপারেশ সিঁদুরে ক্ষতবিক্ষত পাকিস্তান এবার একেবারে ধুলোয় মিশে যাবে? পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের উড়বে তেরঙা ঝান্ডা। এই সব প্রশ্ন উস্কে দিয়েই এবার রাশিয়ার থেকে আরও ৫টি S-400 এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম কিনল ভারত। যার নির্যাস, ভারতের আকাশ সুরক্ষা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আরও মজবুত। এই S-400 এয়ার ডিফেন্স মিসাইল অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের ছোড়া মিসাইলগুলিকে আকাশেই প্রতিহত করে দিয়েছিল। পাকিস্তানের একাধিক ড্রোন ও যুদ্ধবিমানকে নামিয়ে দিয়েছিল।
ভারতও সামরিক ভাবে আরও শক্তিশালী করছে নিজেকে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধে জড়িয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১০টি দেশ। দুবাই, কুয়েত, আরব আমিরশাহি, ওমান সহ ৯টি দেশে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইরানের লক্ষ্যে রয়েছে, ওই দেশগুলিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি। এছাড়াও সাধারণ মানুষের উপরেও হামলা চলছে লাগাতার। যুদ্ধের ভাষায়, কোল্যাটারাল ড্যামেজ। এহেন পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়ার থেকে আরও ৫টি S-400 এয়ার ডিফেন্স মিসাইল কিনে ফেলল, যা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।
পাকিস্তানের আশঙ্কা, হঠাত্ হামলা চালাতে পারে ভারত
ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভারত ফের পাকিস্তানে হামলা চালানোর তোড়জোড় করছে। পাক রাষ্ট্রপতির এহেন আশঙ্কা প্রকাশের মধ্যেই ভারতের সামরিক পদক্ষেপ। ভারতের কাছে বর্তমানে তিনটি S-400 মিসাইল রয়েছে। আরও ৫টি কিনল। অর্থাত্ ৮টি S-400 থাকছে ভারতের হাতে। ওদিকে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে চিনের এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম। অপারেশন সিঁদুরের সময় সেই মিসাইল সিস্টেম ফেল করেছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স দেখিয়েছে S-400 সিস্টেম। একের পর এক পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান নামিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ও নৌসেনা ঘাঁটি উড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
ভারতের কাছে আরও ‘সুদর্শন চক্র’
চারদিনের সামরিক উত্তেজনার সময় ভারতীয় সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে কেনা S-400 Triumf আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাকে ভারতে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে অভিহিত করা হয়,পাকিস্তান থেকে নিক্ষেপ করা ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এই ব্যবস্থা একাধিক লক্ষ্যবস্তু একসঙ্গে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম এবং দীর্ঘ পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষায় এটিকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তান চিনা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম HQ-9 মোতায়েন করে। অপারেশন সিঁদুরের সময় দেখা গিয়েছে, এই ব্যবস্থা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাতেও HQ-9-এর কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সমালোচনা হয়েছে, যদিও একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার মোতায়েন কৌশল, রাডার সমন্বয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের S-400 ক্ষেপণাস্ত্র মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিরুদ্ধে আরও প্রস্তুত থাকা যায়। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই নতুন দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। বিদেশি ক্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকেও জোর দিচ্ছে ভারত। ‘প্রজেক্ট কুশা’ নামে একটি দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির কাজ করছে ডিআরডিও। এর লক্ষ্য হল, কৌশলগত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আমদানি নির্ভরতা কমানো।