S-400 Squadron মিসাইলমে মাসেই চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রন মিসাইল ভারতে আসার সম্ভাবনা। বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত সরবরাহ। ভারত এই বছরের মে মাসের মধ্যে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ স্কোয়াড্রনটি পেতে চলেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তি হতে চলেছে। এই সময়ই আসতে চলেছে চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রন।
২০১৮ সালে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। যার আওতায় এস-৪০০ সিস্টেমের পাঁচটি স্কোয়াড্রন কেনা হয়। এই অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ভারতের কৌশলগত স্থানগুলোর সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিলিগুড়ি করিডোর, পাঠানকোট এবং পশ্চিম সীমান্তে সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। স্কোয়াড্রনগুলোর মধ্যে একটিকে কৌশলগতভাবে শিলিগুড়ি করিডোর রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। যা ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। 'চিকেনস নেক' রক্ষা করছে এটি।
জম্মু ও কাশ্মীর এবং পঞ্জাবের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে এবং চিন ও পাকিস্তান উভয় দিক থেকে আসা সম্ভাব্য আকাশপথে হুমকি থেকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য পাঠানকোট অঞ্চলে আরও একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। তৃতীয় স্কোয়াড্রনটিকে ভারতের পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে, যা রাজস্থান ও গুজরাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।
অপারেশন সিঁদুরের সময় এস-৪০০ স্কোয়াড্রনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যখন ভারত দেশীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করেছিল। ২০২০ সালে লাদাখে চিনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর, ভারত হুমকি মোকাবিলায় তার বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। ডিএসি পাঁচটি নতুন এস-৪০০ সিস্টেম সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সভাপতিত্বে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিএসি) জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত পাঁচটি রুশ এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে।
এটি ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য ২.৩৮ লক্ষ কোটি ডলারের একটি বৃহত্তর প্যাকেজের অংশ। দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএসি (DAC) ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। এই নতুন ইউনিটগুলির উদ্দেশ্য হলো শত্রু বিমান, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে আইএএফ (IAF)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের বিশেষত্ব
প্রতিটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনে ১৬টি যান থাকে, যার মধ্যে লঞ্চার, রাডার ইউনিট, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং কারিগরি সহায়ক যান অন্তর্ভুক্ত। এই উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকেও আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত করতে পারে। এস-৪০০ চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা সজ্জিত, যা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার টার্গেটকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। এটি শত্রু যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি ছোট ড্রোনকেও প্রতিহত ও ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা এটিকে ভারতের অস্ত্রাগারের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত করেছে।