India Today Conclave 2026: অগ্রগতি ও অস্থিরতার বিশ্ব, ‘সময়ের বড় বৈপরীত্য’ নিয়ে বললেন অরুণ পুরী

অরুণ পুরীর কথায়, “আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে কূটনৈতিক বা প্রযুক্তিগত একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্ত বহু বছরের অগ্রগতিকে মুহূর্তে মুছে দিতে পারে। আর বিদ্রূপের বিষয় হল, আমাদের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলিই এখন আধুনিক যুদ্ধের ধরনকে বদলে দিচ্ছে।”

Advertisement
অগ্রগতি ও অস্থিরতার বিশ্ব, ‘সময়ের বড় বৈপরীত্য’ নিয়ে বললেন অরুণ পুরীঅরুণ পুরী, চেয়ারম্যান ও এডিটর ইন চিফ, ইন্ডিয়া টুডে গোষ্ঠী
হাইলাইটস
  • AI–নির্ভর এই পরিবর্তনের যুগে ভারতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন পুরী
  • প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নতুন ধরনের ভাঙনও তৈরি করতে পারে
  • প্রযুক্তির বাইরেও বিশ্বের সামনে বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে

বিশ্ব যখন একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই–এর অভূতপূর্ব অগ্রগতির সাক্ষী হচ্ছে, অন্যদিকে তখন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলার ভাঙনের সঙ্গেও লড়াই করছে, এই বৈপরীত্যই বর্তমান সময়কে সংজ্ঞায়িত করছে। আজ অর্থাত্‍ শুক্রবার India Today Conclave 2026-এর উদ্বোধনী ভাষণে এই কথা বলেন India Today Group-এর চেয়ারম্যান ও এডিটর-ইন-চিফ।

Breakthroughs and Breakdowns থিমে অনুষ্ঠিত এই কনক্লেভের সূচনা করে তিনি বলেন, 'মানবসভ্যতা একদিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আবার একই সঙ্গে সভ্যতার সবচেয়ে পুরনো ভাঙন, যুদ্ধ, আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক শক্তি অভূতপূর্ব গতিতে এগোচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্বল হয়ে পড়ছে, প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন ভেঙে যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলাও নড়বড়ে হয়ে উঠছে। এটাই আমাদের সময়ের বড় বৈপরীত্য।' পুরীর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকে বদলে দিলেও মানুষের প্রবৃত্তি এখনও পুরনো সংঘাতের ধাঁচেই রয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের বুদ্ধিমত্তা হয় তো কৃত্রিম হয়ে উঠেছে, কিন্তু আমাদের প্রবৃত্তি এখনও অনেক সময় আদিম। এখন এমন এক সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, যখন অগ্রগতি এবং অস্থিরতা একসঙ্গে ঘটছে।'

অরুণ পুরীর কথায়, “আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে কূটনৈতিক বা প্রযুক্তিগত একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্ত বহু বছরের অগ্রগতিকে মুহূর্তে মুছে দিতে পারে। আর বিদ্রূপের বিষয় হল, আমাদের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলিই এখন আধুনিক যুদ্ধের ধরনকে বদলে দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত পরীক্ষাগারের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। উৎপাদনশীলতা, সৃজনশীলতা, প্রশাসন এবং দৈনন্দিন জীবন, সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। আগে যে প্রযুক্তিগত ক্ষমতা শুধু বড় সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন সাধারণ মানুষের হাতেও পৌঁছে গেছে।

AI–নির্ভর এই পরিবর্তনের যুগে ভারতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন পুরী। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন থেকে লাভবান হওয়ার জন্য ভারত খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে।

Advertisement

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নতুন ধরনের ভাঙনও তৈরি করতে পারে। এআই কর্মসংস্থান, বৈষম্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তুলছে। উৎপাদনশীলতা বাড়লেই যে সবার মধ্যে সমানভাবে সমৃদ্ধি ভাগ হবে, এমনটা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এআই অনেকটা আগুনের মতো। এটি যেমন আপনার খাবার রান্না করতে পারে, তেমনই আপনার বাড়ি পুড়িয়েও দিতে পারে।” ডিপফেক বা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে খুব দ্রুত সমাজে বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এর পাশাপাশি কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির বাইরেও বিশ্বের সামনে বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠান, তথ্য ও নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থার ক্ষয়। অরুণ পুরীর মতে, গণতন্ত্র সাধারণত হঠাৎ ভেঙে পড়ে না। ধীরে ধীরে তা দুর্বল হয়ে যায়, যখন আলোচনা চিৎকারে পরিণত হয়, মতভেদকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয় এবং সত্যকে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

অরুণ পুরীর বক্তৃতার সম্পূর্ণ রইল

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ,

সুপ্রভাত।

India Today Conclave-এর ২৩তম সংস্করণে আপনাদের সবাইকে আন্তরিক স্বাগত।

এ বছরটি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ India Today ম্যাগাজিন প্রকাশের ৫০ বছর পূর্ণ করেছে।

আজ India Today Group-এর দিকে তাকালে আপনারা দেখবেন, এটি একটি শক্তিশালী মাল্টিমিডিয়া নেটওয়ার্ক, যা ৭৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু সবকিছুর শুরু হয়েছিল একটি মাত্র ম্যাগাজিন দিয়ে। সেখান থেকেই সবকিছুর জন্ম, যার ভিত্তি আজ ৫০ বছর গভীর।

এই অর্ধশতাব্দী ধরে এডিটর-ইন-চিফ হিসেবে ইতিহাসকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি।

এই কয়েক দশকে আমি এমন একটি ভারতকে দেখেছি, যা অসাধারণ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। একসময় যে দেশকে LDC (Less Developed Country) বলা হত, এমনকি RDC (Refuse-to-Develop Country) বলেও ব্যঙ্গ করা হত, সেই ভারত আজ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি।

এই যাত্রাপথে আমরা সন্ত্রাসবাদ, সামাজিক অস্থিরতা, মেরুকরণ, দাঙ্গা, হত্যাকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তবুও আমরা টিকে আছি।

সবচেয়ে বড় কথা, আমরা একটি গণতন্ত্র হিসেবে টিকে আছি—যদিও তা নিখুঁত নয়, তবুও দৃঢ়। আর সেটাই গর্ব করার মতো বিষয়।

এ বছর মনে হচ্ছে যেন কনক্লেভের সঙ্গে ইতিহাসের এক অদ্ভুত মিল হয়ে গেছে। Breakthroughs and Breakdowns—এই থিমটি আমরা অনেক মাস আগেই ঠিক করেছিলাম। তখন আমরা জানতাম না, আমাদের কাছাকাছি অঞ্চলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে, যা আবারও মনে করিয়ে দেবে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা কতটা ভঙ্গুর।

একদিকে এই যুদ্ধের কারণে আমাদের কনক্লেভের সূচিতে সমস্যা হয়েছে, কারণ অনেক বিদেশি বক্তা আসতে পারেননি। অন্যদিকে, বিশ্বকে কোনও ভ্রান্তি ছাড়া নতুন করে বোঝার এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে?

এই কনক্লেভের উদ্দেশ্যই সবসময় সেটাই ছিল।

আমরা মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় অগ্রগতির সময়ে বাস করছি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

কিন্তু একই সঙ্গে আমরা মানবসভ্যতার সবচেয়ে পুরনো ভাঙন, যুদ্ধ, দেখছি।

বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক শক্তি দ্রুত এগোচ্ছে। আবার একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হচ্ছে, নিয়মকানুন ভেঙে পড়ছে এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলা নড়বড়ে হয়ে উঠছে।

এটাই আমাদের সময়ের বৈপরীত্য।

আমাদের বুদ্ধিমত্তা হয়তো কৃত্রিম হয়েছে, কিন্তু আমাদের প্রবৃত্তি এখনও আদিম।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে কূটনৈতিক বা প্রযুক্তিগত একটি ভুল সিদ্ধান্ত বহু বছরের অগ্রগতিকে মুছে দিতে পারে। আর আশ্চর্যের বিষয়, আমাদের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলিই আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে দিচ্ছে।

অগ্রগতি এবং অস্থিরতা এখন আর ধারাবাহিকভাবে ঘটে না, এগুলি একই সঙ্গে ঘটছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন পরীক্ষাগার থেকে বাস্তব জীবনে চলে এসেছে। এটি উৎপাদনশীলতা, সৃজনশীলতা, প্রশাসন এবং দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিচ্ছে।

Advertisement

যে প্রযুক্তি আগে শুধু বড় সংস্থার হাতেই ছিল, এখন তা সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে।

এই পরিবর্তন থেকে ভারত বিপুলভাবে লাভবান হতে পারে।

আমাদের জনসংখ্যার পরিসর, দক্ষতা এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কারণে আমরা নতুন উদ্ভাবনকে সুযোগে পরিণত করতে পারি। আমরা আর শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা নই, ধীরে ধীরে প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিতে শুরু করেছি।

তবে প্রযুক্তি নতুন ভাঙনও তৈরি করতে পারে।

এআই কর্মসংস্থান, বৈষম্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তুলছে।

উৎপাদনশীলতা বাড়লেই যে সমানভাবে সমৃদ্ধি বাড়বে, তা নয়।

যদি সমাজে সম্পদ তৈরি হওয়ার গতি অন্তর্ভুক্তির গতিকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে অগ্রগতি সহজেই পশ্চাদপসরণে পরিণত হতে পারে।

এআই অনেকটা আগুনের মতো, এটি আপনার খাবার রান্না করতে পারে, আবার আপনার বাড়িও পুড়িয়ে দিতে পারে। ডিপফেক কয়েক সেকেন্ডে কারও সুনাম নষ্ট করতে পারে। অ্যালগরিদম খুব দ্রুত সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে।

যদি আমরা দক্ষতার বিনিময়ে মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলি, তাহলে আমরা হেরে যাব।

এই অস্থিরতার মধ্যেও আমাদের নৈতিকতা এবং স্বাধীন বিচারবোধকে ধরে রাখতে হবে।

প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, একদিন কি রোবট এসে India Today-এর সম্পাদককে প্রতিস্থাপন করবে?

আমার স্ত্রী হয়তো বলবেন, এমন একটি রোবট যে কোনও প্রশ্ন ছাড়াই তাঁর কথা শুনবে, তার সঙ্গে থাকা নিশ্চয়ই সহজ!

কিন্তু সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রক্রিয়াকরণ নয়। এটি বাস্তবতাকে অনুভব করার বিষয়, সময়ের পরিবেশ, মানুষের কণ্ঠস্বর, অনুভূতি এবং উত্তেজনাকে বোঝার বিষয়। কোনও যন্ত্র তা পুরোপুরি করতে পারে না।

এআই সাংবাদিকদের আরও সমৃদ্ধ গল্প বলার সুযোগ করে দেবে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকতে হবে।

তাই মনে হয় আমার চাকরিটা এখনও থাকবে। আর আমার স্ত্রীকেও আমাকে সহ্য করতেই হবে, যতক্ষণ না এআই আরও উন্নত হচ্ছে।

প্রযুক্তির বাইরে আমরা ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও সাক্ষী হচ্ছি।

একসময় যে বিশ্বায়ন অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ইঞ্জিন ছিল, এখন তা চাপের মুখে।

সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে যাচ্ছে।

বাণিজ্য ক্রমশ রাজনৈতিক হয়ে উঠছে।

নিরাপত্তার জন্য অনেক সময় দক্ষতাকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।

তবুও এই অস্থিরতার মধ্যেই একটি নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকার প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা করছেন, তা পুরনো বৈশ্বিক শৃঙ্খলাকে নাড়া দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ব আরও বহুমেরু, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং পরিবর্তনশীল হয়ে উঠেছে।

ভারতের মতো দেশের জন্য এতে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi নিশ্চিত করেছেন যে স্বাধীনতার পর এই সময়েই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কণ্ঠস্বর সবচেয়ে জোরালো হয়েছে।

তবে আরও গভীর ভাঙনের মুখোমুখিও আমাদের হতে হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের হুমকি নয়—এটি এখনকার বাস্তবতা। চরম আবহাওয়া, জলের সংকট এবং খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যা ইতিমধ্যেই অর্থনীতি ও রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।

দুঃখের বিষয়, সমাধান থাকা সত্ত্বেও সম্মিলিত উদ্যোগ এখনও যথেষ্ট নয়।

আরও একটি বড় সমস্যা হল আস্থার সংকট—প্রতিষ্ঠান, তথ্য এবং নেতৃত্বের উপর মানুষের বিশ্বাস কমে যাচ্ছে।

গণতন্ত্র সাধারণত রাতারাতি ভেঙে পড়ে না। ধীরে ধীরে তা দুর্বল হয়ে যায়—যখন আলোচনা চিৎকারে বদলে যায়, মতভেদকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয় এবং সত্যকে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

গণতন্ত্রের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দরকার। আর সেই অক্সিজেন হল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শক্তিশালী গণমাধ্যম।

সেই কারণেই India Today Conclave-এর মতো মঞ্চ এত গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কনক্লেভ বিশ্বের নেতা, চিন্তাবিদ এবং সমালোচকদের একত্রিত করে, সম্মতি তৈরি করার জন্য নয়, বরং বোঝাপড়াকে গভীর করার জন্য।

আজকের এই অগ্রগতি ও ভাঙনের যুগে এই ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমাদের সামনে মূল প্রশ্ন হল—বিশ্ব বদলাবে কি না।

Advertisement

বিশ্ব ইতিমধ্যেই বদলে গেছে।

আসল প্রশ্ন হল, আমরা কি অগ্রগতিকে স্থায়ী উন্নতিতে রূপান্তর করতে পারব, নতুন বিপর্যয় সৃষ্টি না করে?

উদ্ভাবন কি অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে?

বৃদ্ধি কি টেকসইতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে?

ক্ষমতা কি সংযমের সঙ্গে ব্যবহার করা সম্ভব?

আগামী দুই দিনে আপনারা অনেক মতামত শুনবেন—কিছু আশাবাদী, কিছু উদ্বেগজনক, কিছু তীব্রভাবে ভিন্ন।

সেটাই স্বাভাবিক।

মন দিয়ে শুনুন। জোরালোভাবে তর্ক করুন। কিন্তু সম্মান রেখে মতভেদ করুন।

কারণ এমন সময়ে সবচেয়ে বড় বিপদ অস্থিরতা নয়।

সবচেয়ে বড় বিপদ হল আত্মতুষ্টি।

ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, India Today Conclave 2026-এর “Breakthroughs and Breakdowns”-এ আপনাদের স্বাগত।

POST A COMMENT
Advertisement