করণ আদানিIndia Today Conclave Karan Adani: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা যত তীব্র হচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে ভারতের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। এই চরম অস্থিরতার আবহে শুক্রবার ‘ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ২০২৬’-এর মঞ্চ থেকে ভারতের ভবিষ্যৎ রণকৌশল বাতলে দিলেন আদানি পোর্টস-এর কর্ণধার করণ আদানি। তাঁর মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতকে এখন কেবল একটি রুটের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং বিকল্প বন্দর ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে জোগান অব্যাহত রাখাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এদিন করণ আদানি স্পষ্ট করে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যদি বড়সড় কোনো অবরোধ তৈরি হয়, তবে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি (LPG) আমদানি সরাসরি ধাক্কা খাবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার দাওয়াই হিসেবে তিনি চাবাহার এবং ইজরায়েলের হাইফা বন্দরের মতো আন্তর্জাতিক প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আইএমইসি (IMEC) বা ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর কেবল একটি বাণিজ্যিক পথ নয়, বরং সংকটের সময়ে এটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে।
আদানি গোষ্ঠীর এই তরুণ তুর্কি মনে করেন, ভারতের বন্দরগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্টোরেজ বা মজুত ভাণ্ডার বাড়ানোর সময় এসেছে। এলএনজি (LNG) টার্মিনালগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর কম পড়বে। করণ আদানির কথায়, “ভারতকে এমন এক জায়গায় পৌঁছাতে হবে যেখানে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও আমাদের নিজস্ব সাপ্লাই চেইন বা জোগান ব্যবস্থা অটল থাকে।”
জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা কমাতে করণ আদানি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সৌরশক্তির প্রসার ঘটলে ভারতের বিদেশের তেলের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশেই কমে আসবে। আদানি গোষ্ঠী যে ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যপূরণে কাজ শুরু করেছে এবং বন্দরগুলোতে গ্রিন এনার্জি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে, সেই বার্তাও এদিন কনক্লেভের মঞ্চে ফুটে ওঠে।
আলোচনার শেষে তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে ভারত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো মজবুত থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটে তার প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব। করপোরেট ও সরকারের যৌথ প্রচেষ্টাই আগামী দিনে ভারতকে একটি স্বনির্ভর শক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে বলে তিনি দাবি করেন।