মহিলা কর্মীদের হেনস্থার খবর সামনে আসতেই বিবৃতি কোম্পানিরমঙ্গলবারই নাসিকে TCS-এর মহিলা কর্মীদের উপর যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল পড়েছিল। সেই রেশ মিটতে না মিটতেই এবার Infosys-এর তরফেও এল বয়ান।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, বেশ কিছু ইনফোসিস-এর মহিলাকে কর্মক্ষেত্রে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে Infosys BPM পুনে ক্যাম্পাস।
সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে এরকম কিছু পোস্ট হয়েছে, সেই বিষয়ে কোম্পানি অবগত। তবে ইনফোসিস স্পষ্ট করেছে, যে কোনও ধরনের হেনস্থা বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের “জিরো টলারেন্স” নীতি রয়েছে এবং সব কর্মীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
Infosys BPM-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থার মধ্যে এই ধরনের অভিযোগ মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট নীতি ও শক্তিশালী ব্যবস্থা রয়েছে, যা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কোনও অভিযোগ সামনে এলে তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় এবং নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হয়।
এছাড়াও কর্মীদের যে কোনও সমস্যা বা উদ্বেগ জানানোর জন্য ‘স্পিক-আপ’-সহ একাধিক উদ্যোগও চালু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইনফোসিস আরও জানিয়েছে, তাদের আচরণবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ নৈতিকতা, সততা এবং কর্মক্ষেত্রের মান বজায় রাখতে কোম্পানি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
TCS-এ ঠিক কী হয়েছে?
নাসিকে TCS-এর একাধিক মহিলা কর্মী উপতলার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন। এমনকী তাঁদের ধর্মান্তরণের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। এক প্রাক্তন কর্মীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্তরা শুধু অফিস টাইমেই নয়, ছুটির পরও কোম্পানির ভিতরে থেকে সন্দেহজনক কার্যকলাপ চালাত। মূল অভিযুক্ত ২০২২ সাল থেকেই সংস্থার ভিতরে কট্টরপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার করার চেষ্টা শুরু করেছিল।
অভিযোগ, অভিযুক্তরা টার্গেট করত মহিলাদের। যারা শাড়ি পরতেন বা ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে চলতেন, তাঁদের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালানো হত। SIT সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের পরিকল্পনা ছিল ঘুরতে যাওয়ার নাম করে মেয়েদের কোনও রিসর্টে নিয়ে গিয়ে তাঁদের উপর যৌন নির্যাতন চালানো। থানায় অভিযোগকারীণীরা জানিয়েছেন, তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। হিন্দু দেবদেবীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। এমনকী তাঁদের মাংস খেতে ও নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
তদন্তে ‘নিদা খান’ নামে এক মহিলার নাম সামনে এসেছে, মূলচক্রী বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, সে নতুন মেয়েদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াত। তারপর ধর্মীয় আলোচনায় টেনে আনত। পরে তাঁদের ধর্মান্তরণে প্ররোচিত করা হতো।
পুলিশি তৎপরতার খবর পেয়ে নিদা খান মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দানিশ শেখ, শফি শেখ, তৌসিফ আত্তার, শাহরুখ হুসেন শওকত কুরেশি, রজা রফিক মেমন, আসিফ আনসারি, অশ্বিনী চৈনানি এবং নিদা খানের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে অশ্বিনী চৈনানিকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে, তবে নিদা খান এখনও পলাতক।