INS Kolkata vs PNS Hunainগত মঙ্গলবার আরব সাগরে ভারতের রণতরী INS কলকাতাকে ধাক্কা মেরেছিল পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ PNS হুনাইনের। পাকিস্তানের কাছে এ যেন ছিল 'বামন হয়ে চাঁদ ধরার চেষ্টা।' PNS হুনাইন ২৬০০ টনের একটি পেট্রোল ভেসেল। আর সেখানে INS কলকাতা ভারতীয় নৌসেনার অন্যতম শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এর ওজন পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজটির ৩ গুন (৭৪০০ টন)। হাতির সঙ্গে মশার লড়াই যেমন হতে পারে, এ যেন ঠিক তেমন।
অসম লড়াই করতে নেমে পরিণতি কী হতে পারে, তা হাতেনাতে টের পেয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের রণতরীতে ধাক্কা মেরে উল্টে নিজের যুদ্ধজাহাজই তুবড়ে গিয়েছে। সামনের আর্চ করা অংশ ভিতরে ঢুকে গিয়েছে ওই যুদ্ধজাহাজের। মেরামত করার জন্য সেটিকে তড়িঘড়ি পাঠানো হয়েছে উপকূলে। অথচ ভারতীয় INS কলকাতার গায়ে একটা আঁচড়ও পরেনি। উল্টে দিব্যি নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আরব সাগরে। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে INS কলকাতা সম্পূর্ণ অক্ষত।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথন ইন্ডিয়া টুডে-কে বলেন, 'দু'টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে আকাশ আর পাতাল তফাৎ। হুনাইন একটি অফশোর নজরদারি ভেসেল। সেটিতে বেশ কয়েকটি মিসাইল রাখা হয়েছিল। INS কলকাতা দেশের অন্যতম বড় প্রথমসারির যুদ্ধজাহাজ। দৈত্যাকৃতি রণতরী এটি।'
তবে আরব সাগরের এই ঘটনা নতুন করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দুই দেশই একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। উত্তর আরব সাগরে রুটিন সার্ভেল্যান্স চালাচ্ছিল ভারতীয় রণতরী। এমনটাই জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। সে সময়ে আচমকাই এসে ধাক্কা মারে পাকিস্তানি ভেসেলটি। শ্যাডো করার চেষ্টা করছিল সেটি। PNS হুনাইন সেই অংশেই ছিল যেখানে পাকিস্তানের নৌসেনা টহল দেয়।
সূত্রের খবর, আচমকাই নিজের গতি বাড়িয়ে PNS হুনাইন INS কলকাতার একদম কাছে চলে আসে এবং সেটিতে ধাক্কা মারে। জানা গিয়েছে, এর জেরে PNS হুনাইন তুবড়ে গিয়েছে এবং সেটিতে বড়সড় চিড়ও ধরেছে। এমনকী, এই ঘটনায় ৪ জন পাকিস্তানি সেনাও আহত হয়েছেন বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রসঙ্গে কোনও কথা বলা হয়নি এখনও।
তবে খুব সহজেই এই ঘটনা বুঝিয়ে দিয়েছে, ভারত এবং পাকিস্তানের নৌবাহিনীর বিশাল ফারাক। শক্তি, ক্ষমতা এবং বহরে পাক যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় রণতরী কাছে মশার মতো, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, 'পাকিস্তানের জন্য আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। INS কলকাতা যদি দিক পরিবর্তন করত, নিজের ক্রু-কে বাঁচানোর জন্য পাল্টা পাকিস্তানি ভেসেলে ধাক্কা মারত, তাহলে সেটি মিনিটের মধ্যে আরব সাগরে ডুবে যেত। খুব ভয়ঙ্কর একটি রণতরীর সঙ্গে লড়াই করতে চলে এসেছিল পাকিস্তান। নিজেরাও জানে না কী হতে পারত।'
PNS Hunain মূলত একটি Yarmook-class patrol vessel, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নজরদারি এবং সীমিত যুদ্ধের জন্য সক্ষম। ২০১৪ সালে কমিশন করা এই জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ মিটার এবং এটি ২৬০০ টনের। এতে ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে এবং সর্বোচ্চ ২৫ নট গতিতে চলতে পারে। জাহাজটিতে একটি মাঝারি আকারের হেলিকপ্টার, একটি UAV এবং হাল্কা নৌকা বহন করার ক্ষমতা রয়েছে। এই ধরনের জাহাজ নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এদের নৌযুদ্ধের ক্ষমতা সীমিত। PNS Hunain-এ anti-ship missile, air-defence system এবং ৩০ মিমি naval gun থাকতে পারে বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, INS Kolkata অনেক বেশি শক্তিশালী। PNS Hunain-এর কমান্ডার যখন এই destroyer-কে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন তিনি জাহাজটির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সত্যিই অবগত ছিলেন না, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝামেলা তৈরি করতে চেয়েছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে যা জানা যায়, তা হল পাকিস্তান স্পষ্টতই ভুল যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলেছিল। INS Kolkata একটি অনেক বড় guided-missile destroyer, যা আকাশ, সমুদ্র এবং জলের নীচে বিভিন্ন ধরনের হামলার মোকাবিলা এবং বহুমুখী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। INS Kolkata-এর দৈর্ঘ্য ১৬৪ মিটার এবং সর্বোচ্চ গতি ৩০ নট।
২০১৪ সালের অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে উদ্বোধন হওয়া INS কলকাতা ভারতে তৈরি সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজগুলির অন্যতম। সবচেয়ে বড় পার্থক্য শুধু আকারে নয়, বরং কোন ধরনের যুদ্ধের জন্য জাহাজ দু'টি তৈরি হয়েছে, সেখানেই।
INS Kolkata-তে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরের সমন্বয়। এর মধ্যে রয়েছে BrahMos supersonic surface-to-surface missile। এছাড়াও রয়েছে long-range surface-to-air missile, ৩৬০ ডিগ্রি radar, ৭৬ মিমি gun এবং AK-630 close-in weapon system। Anti-submarine warfare-এর জন্য INS Kolkata-তে রয়েছে torpedo launcher, rocket launcher এবং জাহাজের সামনের অংশে বসানো sonar system। INS Kolkata একই সঙ্গে দু'টি হেলিকপ্টার পরিচালনা করতে পারে, সাধারণত Seaking এবং Chetak।
২০২১ সালে মুম্বইয়ে আঘাত হানা Cyclone Tauktae-এর সময় এই জাহাজটির শক্তি ও সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ৯ মিটার, যা ৫-৬ তলা বাড়ির সমান। সেই সময় এই যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছিল ঝড়ের মধ্যে মানুষকে উদ্ধার করতে।