যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইনস্টাগ্রামে আলাপ। সেখান থেকে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। এরপর হিন্দু রীতিতে বিয়ে। কিন্তু বিয়ের প্রায় ছ'মাস পর স্বামীর পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারেন বলে অভিযোগ হরিয়ানার সোনিপতের এক মহিলার। তাঁর দাবি, স্বামী নিজের ধর্মীয় পরিচয় এবং আগের বিয়ের কথা তাঁর কাছে গোপন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, পরে তাঁকে এবং সন্তানদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ওই মহিলা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে আলাপের সময় ওই ব্যক্তি নিজের নাম জনি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং নিজেকে হিন্দু বলে জানিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর হিন্দু রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
মহিলার অভিযোগ, বিয়ের প্রায় ছ'মাস পর তিনি স্বামীর পরিচয় নিয়ে সন্দেহজনক তথ্য জানতে পারেন। তাঁর দাবি, স্বামীর ব্যাগ থেকে একটি আধার কার্ড পাওয়া যায়। সেখানে নাম লেখা ছিল জাভেদ খান। এরপরই তিনি জানতে পারেন বলে দাবি করেন, জনি আসলে মুসলিম এবং তাঁর আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল।
মহিলার আরও দাবি, জাভেদ খান সোনিপতেরই বাসিন্দা এবং প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তাঁর তিন সন্তানও রয়েছে বলে অভিযোগ মহিলার।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বলে দাবি তাঁর। মহিলার অভিযোগ, একদিন তাঁদের একসঙ্গে থাকার জায়গায় জাভেদের প্রথম স্ত্রী এসে পৌঁছন। দু'জনের মধ্যে বচসা হয় এবং এরপর প্রথম স্ত্রী জাভেদকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
কয়েক দিন পর জাভেদ ফিরে আসেন বলে দাবি মহিলার। তাঁর অভিযোগ, তখন জাভেদ জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ওই মহিলার সঙ্গে আর না থাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। যদিও এরপরও দু'জনে একসঙ্গে থাকতে থাকেন বলে দাবি।
পরে তাঁরা উত্তরপ্রদেশের বুধানায় চলে যান। সেখানেই তাঁদের একটি সন্তান জন্মায়। এরপর তাঁরা আবার সোনিপতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই বসবাস করতে শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি ফের বদলে যায়। মহিলার অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জাভেদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোনও খোঁজ নেই। এরপরই তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে মহিলা দাবি করেছেন, তাঁকে এবং তাঁর সন্তানদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। পাশাপাশি স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পরিচয় গোপন, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগও এনেছেন তিনি।
এই ঘটনায় হিন্দু রক্ষা সেনা নামে একটি সংগঠনের এক প্রতিনিধিও মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনেছেন। মহিলা এবং সংগঠনের প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মহিলার অভিযোগ তারা পেয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় দু'পক্ষকেই থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। তবে মহিলার করা অভিযোগগুলি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।