আইফোন ঘিরে মহারাষ্ট্রে পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু (ছবি: আইটিজি)বাবা আইফোন দিচ্ছে না। হতাশ হয়ে পাহাড় দিয়ে ঝাঁপ ছেলের। আর পুত্রকে বাঁচাতে গিয়ে পাহাড় থেকে পড়ে গেলেন বাবা। এই দৃশ্য দেখার পর ঝাঁপ দিলেন মাও। মৃত্যু হল একই পরিবারের ৩ জনের। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নতুন আইফোন কেনাকে কেন্দ্র করে গোটা পরিবারের এমনই মর্মান্তিক পরিণতির খবর সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, ছেলেকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওয়ালুজ এমআইডিসি থানার অন্তর্গত তিসগাঁও এলাকায়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ১৮ বছরের কুণাল চাঁদগুড়ে, তাঁর বাবা ৪৮ বছরের মুরলিধর চাঁদগুড়ে এবং মা সঙ্গীতা চাঁদগুড়ে। তাঁরা জালটা ফাটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ওয়ালুজ থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর রামেশ্বর গাদে জানান, কুণাল একটি নতুন আইফোন চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। তাঁর বাবা পেশায় গাড়িচালক। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।।
বাবা আইফোন কিনে না দেওয়ায় ভেঙে পড়েন কুণাল। এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তিন ঘণ্টা ধরে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা
পুলিশ সূত্রে দাবি, আইফোন ঘিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় কুণালের। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ তিনি পাহাড়ের উপরে উঠে যান। তখন ছেলেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মুরলিধর এবং সঙ্গীতাও। তাঁড়াও পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছন। তাঁরা কুণালকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। বাড়ি ফিরে আসতে বলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে সেখানে পৌঁছে যায় পুলিশকর্মী এবং দমকল বাহিনী। পাহাড়ের নীচে নিরাপত্তা জাল পাতার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কুণাল বারবার পাহাড়ের কিনারায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে থাকে। যার ফলে কঠিন হয়ে পড়ে উদ্ধারকাজ। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এভাবেই বোঝানোর পর্ব চলতে থাকে।
ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পাহাড় থেকে পড়ে যান বাবা
যতদূর খবর, দুপুর ১টা নাগাদ কুণালকে শান্ত করতে এবং তাঁকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনতে তাঁর বাবা মুরলিধর আরও কাছে এগিয়ে যান। তখনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায়।
পুলিশের দাবি, এরপর কুণাল পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। ছেলেকে ধরে ফেলার মরিয়া চেষ্টা করেন মুরলিধর। কিন্তু সেই চেষ্টায় দু’জনেই ভারসাম্য হারিয়ে পাহাড়ের উপর থেকে নীচে পড়ে যান।
ওই সময় চোখের সামনে স্বামী এবং ছেলেকে পাহাড় থেকে পড়ে যেতে দেখেন সঙ্গীতা। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মুহূর্ত পর তিনিও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। এরপর তাঁরও মৃত্যু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়।
এরপর পুলিশ তিনজনের দেহ উদ্ধার করে। ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দেহগুলিকে পাঠান হয়েছে। ঘটনার তদন্তও শুরু করা হয়েছে বলে খবর।