প্রতীকী ছবি মুম্বইয়ে ইরানের দূতাবাসের একটি পোস্ট সম্প্রতি ইন্টারনেটে ব্যাপক শেয়ার হচ্ছে। একটি পোস্ট শেয়ার করে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে ইরান। যা অনেকেরই নজর কেড়েছে।
এই পোস্টটি মূলত জনৈক এক্স হ্যান্ডলের পোস্ট ছিল। যেখানে ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন বিবাদ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে দূতাবাস যেভাবে সেটি রিপোস্ট করে, তাতে অনেক এক্স ইউজারেরই মনে হয় অ্যাকাউন্টটি সম্ভবত কোনও ভারতীয়ই পরিচালনা করছেন।
মূল পোস্টে ইজরায়েল, প্যালেস্তাইন, উপনিবেশবাদ এবং ঘরছাড়া মানুষদের নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য ছিল। যা বরাবরই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত বিষয়। সেখানে বলা হয়েছে, 'ইজরায়েল একটি কলোনি। ১৯৪৮ সালে ভারত প্যালেস্তাইন ভাগের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। ১৯৪৮ সালে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছিলেন, হত্যা করা হয়েছিল অসংখ্য নাগরিককে। বর্তমানে ইজরায়েল বেআইনি ভাবে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গাজায় কব্জা করে রয়েছে। এটা জেনোসাইড ছাড়া আর কিছু নয়।'
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দূতাবাসের নিজের যোগ করা ক্যাপশন। তারা ভারতের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছে, 'যে দেশে দার্শনিকরা গাছের তলায় বসে বিতর্ক করেছেন, গণিতজ্ঞরা শূন্য আবিষ্কার করেছেন, জ্ঞানই সেখানকার জীবনধারা।' এর শেষে একটি হিন্দি লাইন যোগ করা হয়। 'অউর ইঁহা জ্ঞান ভি মিলতা হ্যায় অউর সোয়্যাগ ভি।' মানে এখানে জ্ঞানও পাওয়া যায় আবার এদের স্টাইলও রয়েছে।
মিমের ভাষায় অনলাইনে এভাবে ভারতের প্রশংসা করে রাজনৈতিক বার্তা, অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। কূটনৈতিক স্তরে এমন পোস্ট শেয়ার সচরাচর দেখা যায় না। আবার অনেকে ভারতের জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রশংসাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, '১০০ শতাংশ নিশ্চিত, এটি কোনও ভারতীয়ই হ্যান্ডল করছেন।'
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কূটনৈতিক যোগাযোগের ধরন বদলাচ্ছে। যেখানে আনুষ্ঠানিক বার্তার সঙ্গে কথোপকথোনের মধ্যে হাল্কা মিমধর্মী ভাষার প্রয়োগও দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ইরান এখনও ইজরায়েলের প্রতি সমালোচনামূলক অবস্থান বজায় রেখেছে। আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে তাদের মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।