হরমুজ প্রণালী ইরান-ইজরায়েল দ্বন্দ্বের জেরে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বেড়েছে। ওই পথ দিয়েই ভারতে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক তেল এসে পৌঁছয়। সেই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে গোটা বিশ্বে চাপানউতোর। তবে ভারতের জন্য সুখবর। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে সেই বিষয়ে ইতিবাচ ইঙ্গিত দিলেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি। ভারতকে বন্ধু দেশ বলে উল্লেখ করলেন তিনি।
ভারতের জন্য নিরাপদ পথের ইঙ্গিত
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে ফাথালি বলেন, ভারত ইরানের বন্ধু দেশ। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ভারতের জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, ভারত আমাদের বন্ধু। দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই আপনারা সেটা দেখতে পাবেন।'
ইরান থেকে তেলবাহী জাহাজ প্রথমে নামে পারস্য উপসাগরে। সেখান থেকে তা সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করে। ফের উপসাগরের মাধ্যমে অন্য দেশের উপকূলে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ এই হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে ইরানের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই রুটই বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। কারণ, এই প্রণালী সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত তেল পরিবহন রুট। প্রতিদিন প্রায় ১৭-২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যায়। তবে যুদ্ধের কারণে সেই সংখ্যা কমেছে। বিশ্বের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম। অনেক জাহাজ আটকেও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ভারত-ইরানের 'সাধারণ স্বার্থ'
ভারত নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফাথালি বলেন, ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিস্থিতি দেখা যাবে। তাঁর কথায়,'আমরা বিশ্বাস করি এই অঞ্চলে ইরান ও ভারতের অনেক সাধারণ স্বার্থ রয়েছে।'তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তা পারস্পরিক সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারত ও ইরান বহু বছর ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তিনি আরও দাবি করেন, কঠিন সময়েও ভারত ইরানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী
ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তাহলে তার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি পড়বে। ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল আমদানি এই অঞ্চলের মাধ্যমেই হয়। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।