ইরান, ভেনেজুয়েলায় রয়েছেন ভারতীয়রাও, কতটা নিরাপদ? পশ্চিম এশিয়ার ইরান এবং দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলা নিয়ে এখন চিন্তিত গোটা বিশ্ব। একদিকে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। অন্যদিকে, ইরান এখন বিক্ষুব্ধ জনতার আন্দোলনের সাক্ষী। এমন পরিস্থিতিতে সব দেশের সরকারই নিজেদের দেশের নাগরিকদের নিয়ে চিন্তিত। যে যে দেশের নাগরিকেরা ভেনেজুয়েলা ও ইরানে রয়েছেন, তাঁদের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে সেই দেশের সরকারগুলি। এবার সেই রাস্তায় হাঁটল ভারতও। ইরান ও ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য অ্য়াডভাইজারি জারি করল কেন্দ্র।
ইরানের পরিস্থিতির অবনতি হল কেন?
ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দোকানদারদের ধর্মঘটের মাধ্যমে শুরু হয় আন্দোলন। রিয়ালের (ইরানি মুদ্রা) তীব্র পতন, মুদ্রাস্ফীতি ৪০-৫০ শতাংশে পৌঁছানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। কয়েকদিনের মধ্যেই আন্দোলন অর্থনৈতিক বিষয়ের বাইরেও রাজনৈতিক দাবিতেও ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক আন্তর্জাতির রিপোর্ট অনুসারে, ইরানে কমপক্ষে ২২টি প্রদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ৩৫ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি।
ইরানে কতজন ভারতীয় বাস করেন?
MEA-র দেওয়া পুরনো তথ্য অনুসারে, আগে ইরানে ৪,০০০ থেকে ৪,১৯০ জন ভারতীয় (এনআরআই এবং পিআইও সহ) বাস করতেন। তবে, ২০২৫ সালের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় ১০,৭৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ। যারা মূলত তেহরান এবং জাহেদানে থাকেন।
ইরানে থাকা ভারতীয়দের অপ্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়াও, বিক্ষোভ এলাকা থেকে দূরে থাকা ও ভারতীয় দূতাবাসে নিজেদের নাম-পরিচয় রেজিস্ট্রেশন করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। সর্বোপরি, ভারতীয় দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখতে বলা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় চিত্রটা কেমন?
বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় ভারতীয়দের সংখ্যা খুবই কম। এখানে প্রায় ৫০ জন অনাবাসী ভারতীয় এবং ৩০ জন পিআইও, অর্থাৎ প্রায় ৮০ জন ভারতীয় বাস করেন। এরা মূলত কারাকাসে থাকেন এবং বেশিরভাগই ব্যবসা এবং তেল- গ্যাস খাতে জড়িত রয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার ভারতীয়দের জন্য জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোতে। অত্যন্ত সতর্ক ভাবে রাস্তায় চলাফেরা করা উচিত বলে জানিয়েছে MEA। পাশাপাশি কারাকাসে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে MEA।