IRCTC CANTEEN মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া LPG সঙ্কট এবার ভারতের রেলযাত্রীদের উপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ভারতীয় রেলকে ক্যাটারিং, টিকিটিং ও পর্যটন পরিষেবা দেওয়া সংস্থা IRCTC মঙ্গলবার নির্দেশ দেয়, রেলস্টেশনগুলির রান্নাঘরে এলপিজি সিলিন্ডারের বদলে মাইক্রোওভেন ও ইন্ডাকশন স্টোভে রান্না করতে হবে।
তবে গ্রাউন্ড রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এই নির্দেশের প্রভাব এখনও খুবই সীমিত। অনেক ক্যান্টিন পুরোপুরি ইন্ডাকশন স্টোভে যেতে পারছে না, আবার অনেকেই নতুন পদ্ধতিতে রান্না করা কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন, উত্তরপ্রদেশ
পণ্ডিত দিনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন দিল্লি–হাওড়া লাইনের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন। এখানে এখনও এলপিজি সিলিন্ডারেই রান্না হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্টেশনের ফুড প্লাজার ম্যানেজার সন্দীপ যাদব বলেন, তাঁদের কাছে এখনও কিছু পুরনো এলপিজি সিলিন্ডারের মজুত রয়েছে। যা হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তার কথায়,'IRCTC-র নির্দেশ মেনে ওভেন ও ইন্ডাকশন স্টোভের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। যতদিন সিলিন্ডারের মজুত আছে, ততদিন সেগুলোতেই রান্না হবে। তবে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে নির্দেশ অনুযায়ী ইন্ডাকশন ও ওভেন ব্যবহার করব।'
তিনি আরও বলেন, এত বড় স্টেশনে বিপুল যাত্রীকে খাবার সরবরাহ করতে শুধুমাত্র ইন্ডাকশন বা ওভেন ব্যবহার করা কঠিন হবে। তাই সরকারের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহের আবেদনও জানিয়েছেন তারা।
জয়পুর রেলওয়ে স্টেশন, রাজস্থান
জয়পুর জংশন স্টেশনে IRCTC-র কয়েকটি রান্নাঘর বন্ধ হয়ে গেছে। বিক্রেতারা জানান, ইন্ডাকশন বা মাইক্রোওভেনে এত পরিমাণ খাবার রান্না করা সম্ভব নয়।
গ্যাস সিলিন্ডার না থাকায় বুধবার সন্ধের মধ্যেই স্টেশনে খাবারের সরবরাহ প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। অনেক ম্যানেজারই দাবি করেছেন, অনেকটা খাবার রান্না করতে ইন্ডাকশন বা মাইক্রোওভেন কার্যকর নয়। তাই IRCTC ক্যান্টিনগুলিকে জরুরি পরিষেবার আওতায় এনে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের দাবি তুলেছেন তারা।
চারবাগ রেলওয়ে স্টেশন, লখনউ
চারবাগে IRCTC রেস্তরাঁয় ইন্ডাকশন ও গ্যাস, দুটোই ব্যবহার করা হচ্ছে। চা বা জল গরম করার মতো কাজে ইন্ডাকশন ব্যবহার হলেও নিয়মিত খাবার এখনও গ্যাসেই রান্না হচ্ছে।
রেস্তোরাঁর ম্যানেজার অভিষেক ত্রিপাঠী জানান, তাদের রান্নাঘরের দৈনিক ক্ষমতা প্রায় ১.৫ টন এবং প্রতিদিন প্রায় ১০০০ যাত্রীকে খাবার সরবরাহ করা হয়। পুরো রান্নাঘর শুধুমাত্র ইন্ডাকশনে চালানো বাস্তবে সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তিনি।
এক যাত্রী ফিরোজ খান বলেন, 'পুরো ব্যবস্থা ইন্ডাকশনে কীভাবে চলবে তা সময়ই বলবে। আপাতত গ্যাসে রান্না করাই বেশি সহজ ও সংগঠিত।'
মুজফ্ফরপুর জংশন, বিহার
মুজফরপুর-এও IRCTC স্টলগুলিতে এখনও এলপিজি সিলিন্ডারেই রান্না চলছে। ক্যান্টিন পরিচালকেরা জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে কেনা ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার করে কাজ চালানো হচ্ছে। ক্যান্টিন ম্যানেজার মনোজ কুমার বলেন, 'সিলিন্ডার জোগাড় করতেই খুব সমস্যা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে ইন্ডাকশন স্টোভ সরবরাহ করা হয়নি।'