
জাপান ও ভারতের যুদ্ধবিমান জাপানের বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান F-2A। পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী এই বিমান ভারতে আসছে। এক নয়, একাধিক। আর তাই মাঝ আকাশে মুখোমুখি হবে ভারতের আর এক 'ব্রহ্মাস্ত্র' Su-30MKI-এর।
জাপানের এয়ার সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্স বা জেএএসডিএফের তিনটি F-2A যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে নামতে চলেছে। এই বিমানগুলি রাজস্থানের যোধপুর এয়ার ফোর্স স্টেশনে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলা দ্বিপাক্ষিক বিমান মহড়া ‘বীর গার্জিয়ানে’অংশ নেবে। প্রায় ১১০ জন জাপানি সেনাও এই যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে ভারতে আসছেন।
এটি শুধু একটি সাধারণ সামরিক মহড়া নয়। ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার Su-30MKI যুদ্ধবিমান জাপানে গিয়েছিল। এবার পাল্টা হিসেবে জাপান তাদের অত্যাধুনিক ফ্রন্টলাইন যুদ্ধবিমান ভারতে পাঠাচ্ছে।
জাপানি F-2A যুদ্ধবিমানগুলি ফুকুওকা প্রদেশের ত্সুইকি এয়ার বেস থেকে যাত্রা করবে। ওকিনাওয়ার নাহা এয়ার বেস এবং থাইল্যান্ড হয়ে তারা যোধপুরে পৌঁছবে।
ভারত থেকে সরাসরি এই যাত্রার দূরত্ব প্রায় ৫,৬০০ কিলোমিটার। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে মার্কিন বায়ুসেনার ট্যাঙ্কার বিমান আকাশেই জ্বালানি ভরার কাজে সাহায্য করবে। এত দূরে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা জাপানের বায়ুসেনার কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় অভিযান চালানোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবে জাপানি বায়ুসেনা। পুরো মোতায়েন পর্ব সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমানগুলির ভারতে আসা এবং মহড়া শেষে ফিরে যাওয়াও রয়েছে।
Su-30MKI বনাম F-2A, হবে আকাশে লড়াই
মহড়ার মূল লক্ষ্য হল এয়ার কমব্যাট ট্রেনিং। অর্থাৎ, ভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমানের মধ্যে আকাশপথে যুদ্ধের অনুশীলন। এই মহড়ায় ভারতীয় বায়ুসেনার Su-30MKI-এর সঙ্গে জাপানের F-2 যুদ্ধবিমানের অনুশীলন হবে।
F-2 মূলত মার্কিন F-16 যুদ্ধবিমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি জাপানি সংস্করণ। জাপানের মিতসুবিশি সংস্থা এই যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। এটি জাপানের বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৩ সালের মহড়ার পর এবারও এই অনুশীলন দুই দেশের পাইলটদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ করে দেবে। পাশাপাশি একে অপরের যুদ্ধকৌশল বোঝা এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এর ফলে দুই দেশের বায়ুসেনার মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।
চিনের সামরিক সক্রিয়তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহড়া
ভারত ও জাপান, দুই দেশই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বীর গার্জিয়ান ২০২৬ মহড়া হচ্ছে।
দুই দেশই স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ধারণাকে সমর্থন করে। ফলে এই মহড়ার মাধ্যমে শুধু দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাই বাড়বে না, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও একটি বার্তা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জাপান তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে এবং বিভিন্ন অংশীদার দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ভারতও কোয়াড-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর এই পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা সম্পর্কে নতুন অধ্যায়
বীর গার্জিয়ান ২০২৬ শুধু একটি বিমান মহড়া নয়, এটি ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বেরও প্রতীক। এর আগে দুই দেশের মধ্যে স্থল ও নৌসেনার মহড়া হয়েছে। তবে জাপানের যুদ্ধবিমান এই প্রথম ভারতের কোনও বিমানঘাঁটিতে এসে মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার মাত্রাটিও স্পষ্ট হচ্ছে। কারণ, দুই দেশই একে অপরের সামরিক ঘাঁটিতে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টলাইন যুদ্ধবিমান পাঠাতে প্রস্তুত।
এই মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের পাইলটদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হবে। ভবিষ্যতে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দুই দেশের বাহিনী যাতে আরও ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেই প্রস্তুতিও শক্তিশালী হবে।
জাপান বর্তমানে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই সময় জাপানের F-2 যুদ্ধবিমানের যোধপুরে আসা ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।