Jhansi Hospital Fire: দেশলাই থেকে আগুন! অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও অকোজে, ১০ শিশুমৃত্যুতে কাঠগড়ায় ঝাঁসির হাসপাতাল

হামিরপুরের বাসিন্দা ভগবান দাসের পুত্রসন্তান ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ছিল। গতকাল যখন আগুন লাগে তখন ওয়ার্ডেই ছিলেন ভগবান দাস। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট কারণ হিসেবে বলা হলেও ভগবান দাস বলছেন, ঘটনাটি এক নার্সের গাফিলতিতেই ঘটেছে।

Advertisement
দেশলাই থেকে আগুন! অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও অকোজে, ১০ শিশুমৃত্যুতে কাঠগড়ায় ঝাঁসির হাসপাতালঝাঁসির হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড
হাইলাইটস
  • ঝাঁসির হাসপাতালে আগুন।
  • এখনও পর্যন্ত ১০ শিশুর মৃত্যু।

শুক্রবার গভীর রাতে ঝাঁসির মহারানি লক্ষ্মীবাই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ১০টি নবজাতক। উদ্ধার করা হয়েছে ৩৭ জনকে। একাধিক পরিবার হারিয়েছে নিজের প্রথম সন্তানকে। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া। আগে বলা হচ্ছিল, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে, হাসপাতালের গাফিলতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, জনৈক নার্স অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাইপের সঙ্গে সংযোগ করার জন্য একটি দেশলাই জ্বালিয়েছিলেন। দেশলাই জ্বলতেই পুরো ওয়ার্ডে আগুন লাগে। 

হামিরপুরের বাসিন্দা ভগবান দাসের পুত্রসন্তান ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ছিল। গতকাল যখন আগুন লাগে তখন ওয়ার্ডেই ছিলেন ভগবান দাস। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট কারণ হিসেবে বলা হলেও ভগবান দাস বলছেন, ঘটনাটি এক নার্সের গাফিলতিতেই ঘটেছে। শিশুদের ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাইপ সংযোগ করতে নার্স একটি জ্বালিয়েছিলেন। তারপরই পুরো ওয়ার্ডে আগুন লাগে। নিজের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ৩ থেকে ৪টি শিশুকে বাঁচান ভগবান দাস। অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার অ্যালার্ম বা ওয়ার্ডে রাখা সিলিন্ডারগুলিও কোনও কাজে আসেনি। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ শেষ গিয়েছে ২০২০ সালে। কয়েক বছর ধরে খালি সাজানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পর ৩৭ শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন দমকল কর্মীরা। দুর্ঘটনার সময় এনআইসিইউতে মোট ৫৪ শিশু ভর্তি ছিল। ঘটনাটিকে 'হৃদয় বিদারক' আখ্যায়িত করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করার কথাও ঘোষণা করেছেন যোগী। অন্যদিকে, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ঝাঁসির এসপি বলেন,'কীভাবে আগুন লাগল, এর পিছনে কেউ জড়িত কিনা, সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন । এনআইসিইউতে ভর্তি শিশুদের অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। মেডিক্যাল কলেজ জানিয়েছে,দুর্ঘটনার সময় এনআইসিইউতে ৫২ থেকে ৫৪ শিশু ভর্তি ছিল। এর মধ্যে ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৬টি চিকিৎসাধীন।

Advertisement

নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন কুলদীপ। তিনি জানান,'আমার ছেলে ৭-৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ ছিল। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের তরফে কেউ দেখা করতে আসেনি। দুর্ঘটনার সময় ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ জন শিশু ছিল। পরিবারের লোকজনেরাই ভিতরে ঢুকে শিশুদের বাঁচিয়েছে। 

ললিতপুরের সঞ্জনা প্রথম সন্তান হারিয়ে যেন পাথর! জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সন্তানের কী অবস্থা? 'জীবিত?' সঞ্জনা বললেন, 'না'। চাপা গলায় সন্তানহারা মা আরও বললেন,'আমার বাচ্চাটা পুড়ে গেল। আমরা দেখিনি... পুরোটা'। ওয়ার্ড থেকে শিশুদের বাঁচানো ইয়াকুব জানান, মূল দরজা দিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল না। ইট-পাথর দিয়ে জানালা ভেঙে সদ্যোজাতদের বাঁচাতে হয়। অনেকে নিজের সন্তানদের নিয়ে চলে যায়। হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত আর এক ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনায় তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির জন্ম হয়েছিল ললিতপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে এই সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। সেই শিশুটিও আগুনের লেলিহান গ্রাসের শিকার। 

POST A COMMENT
Advertisement