ঝাড়খণ্ডে ভেঙে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুল্য়ান্সসোমবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ডের চাত্রা জেলায় রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হল এক রোগীর। মৃতের নাম সঞ্জয় কুমার (৪১)। তিনি গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
নাগরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা Directorate General of Civil Aviation (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, রাঁচি–দিল্লি সেক্টরে মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন ফ্লাইট হিসেবে উড়ানটি পরিচালিত হচ্ছিল। সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে। তবে ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ ও রাডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল Beechcraft King Air BE9L মডেলের, রেজিস্ট্রেশন নম্বর VT-AJV। এটি পরিচালনা করছিল Redbird Airways Private Limited। বিমানে মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। পাইলট ইন কমান্ড ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন সাভরাজদীপ সিং, রোগী সঞ্জয় কুমার, তাঁর দুই সহযাত্রী আর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার, চিকিৎসক ডা. বিকাশ কুমার গুপ্ত এবং প্যারামেডিক সচিন কুমার মিশ্র।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাত্রা জেলা প্রশাসনের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দুর্গম এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সময় লাগে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামছে Aircraft Accident Investigation Bureau (এএআইবি)। পাশাপাশি ডিজিসিএ-ও আলাদা করে রিপোর্ট চেয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়ার প্রভাব কিংবা যান্ত্রিক সমস্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা সম্ভব নয়। তবে এই ঘটনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।