পুলিশ বনাম ইডিপশ্চিমবঙ্গের মতোই ঘটনা ঘটল এবার প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। সেখানেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ও রাজ্য পুলিশের অশান্তি। এবার সোজা ইডি-র অফিসেই রেড করে দিল রাঁচির এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। রীতিমতো মারপিটের অভিযোগ উঠল ইডি-র বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে।
ইডি অফিসে অভিযান চালাল পুলিশ
ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির বিমানবন্দর থানার পুলিশ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আঞ্চলিক অফিসে বড়সড় অভিযান চালাল। ইডি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারধরের অভিযোগ এনে সন্তোষ কুমার নামে এক ব্যক্তি এফআইআর দায়ের করার পরই এই পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। অভিযোগ, গত ১২ জানুয়ারি ইডি অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল সন্তোষ কুমারকে। সেখানে প্রতীক ও শুভম নামে দুই ইডি অফিসার তাঁকে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেন বলে দাবি। সন্তোষের অভিযোগ, তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার ফলে তাঁর মাথা ফেটে যায়।
ঘটনার পর রাঁচি পুলিশের একটি দল ইডি অফিসে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল নথি ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, সন্তোষ কুমারের আঘাতের জন্য ইডি কর্মকর্তারাই দায়ী কি না, সেটাও তদন্তের আওতায়।
জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ
এয়ারপোর্ট থানায় দায়ের করা অভিযোগে সন্তোষ কুমার গুরুতর দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চলে। তিনি অস্বীকার করতেই শুরু হয় মারধর। এতে গুরুতর চোট পান তিনি।
বাংলার পর ঝাড়খণ্ডেও বিতর্ক
এই ঘটনা এমন এক সময় সামনে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে I-PAC সংক্রান্ত ইস্যুতে ইডি ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চলছে। তার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পুলিশের সরাসরি ইডি অফিসে অভিযান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও রাজ্য সরকারের সম্পর্ক আরও তিক্ত করে তুলল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।