
ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের বিধানসভা অভিযানকয়েকদিন আগে NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বড় আন্দোলন দেখেছে দেশ। আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রী পদে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এবার ওই একই ধরনের দুর্নীতিতে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরি পরীক্ষায় বড়সড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে নাগাতার ধর্না, অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন পড়ুয়ারা। আজ অর্থাত্ সোমবার তাঁরা ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযান করছেন। পড়ুয়াদের অভিযান ঠেকাতে নিরাপত্তার ব্যাপক কড়াকড়ি রাঁচিতে। ইতিমধ্যেই বিধানসভার অনেক আগেই কাঁটাতারের ব্যারিকেড ও পুলিশে ছয়লাপ।
আজ বিধানসভা ভবন অভিযানের পথে পড়ুয়ারা
রবিবার সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। কিন্তু সেই আলোচনা বিফল হয়েছে। এরপরেই আজ বিধানসভা ভবন অভিযানের পথে পড়ুয়ারা। ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষায় দেদার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, এই দুর্নীতির CBI তদন্ত হোক। কিন্তু হেমন্ত সোরেনের সরকার পড়ুয়াদের দাবি মানতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও রাজ্যপাল সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ার ফের পড়ুাদের আলোচনার টেবিলে বসার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু আন্দোলকারীরা নিজেদের অবস্থানেই অনড়। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন এই দুর্নীতির তদন্তে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
যতদিন না মানবে, ততদিন আন্দোলন চলবে
আন্দোলনকারী ছাত্রদের নেতা সঞ্জয় মেহতার কথায়, 'তিন দফা বৈঠক হয়ে গেলেও সরকার আমাদের ১০০ শতাংশ দাবি মেনে নেয়নি। সোমবার বিধানসভা অভিযানের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ঝাড়খণ্ডের সমস্ত জেলা থেকে চাকরিপ্রার্থী ও আমাদের সহযোদ্ধারা নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছেন। পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত আমরা বিপুল সংখ্যায় মিছিল করব। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবেই এই মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।'

তাঁদের মূলত দাবি, চলতি বছরের ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করা হোক ও দুর্নীতির তদন্তভার দেওয়া হোক সিবিআই-কে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির পরীক্ষার মডেলে বেশি কিছু সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন পড়ুয়ারা। সঞ্জয় মেহতার বক্তব্য, এই দাবিগুলির মধ্যে একটিও যদি সরকার মেনে নেয়, তাহলে যতদিন না মানবে, ততদিন আন্দোলন চলবে।
পড়ুয়াদের আন্দোলনে গত ৮ দিন ধরে অনশন চালাচ্ছেন দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। এদিন বিধানসভা অভিযান কর্মসূচি নিয়ে তিনি বললেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, 'প্রতিটি পরীক্ষাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পড়ুয়াদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর বিরুদ্ধেই আমরা লড়াই করছি। ইতিমধ্যেই আমার ১০ কেজি ওজন কমেছে, রক্তে শর্করার মাত্রাও কমেছে এবং তিনি প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে দেখা এবং পড়ুয়াদের চাকরি থেকে বঞ্চিত হতে দেখার যন্ত্রণা এর থেকেও অনেক বেশি।' রাঁচিতে এই ধর্না আন্দোলন আজ ১৭ দিনে পড়েছে। দেবেন্দ্র ছাড়াও আরও ৬ জন ছাত্র আমরণ অনশন চালাচ্ছেন।
১৪তম JPSC পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সম্মতি
হেমন্ত সোরেনের সরকারের বক্তব্য, তারা ছাত্র-ছাত্রীদের বেশিরভাগ দাবিই মেনে নিয়েছে। আন্দোলন তুলে নিন ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। ঝাড়খণ্ডের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী সুদিব্য কুমারের কথায়, 'দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, আমরা পড়ুয়াদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি হচ্ছেন না। পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কোনও দোষীকে আড়াল করার কোনও অভিপ্রায় সরকারের নেই।'
সরকার জানিয়েছে, তারা ১৪তম JPSC পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি, JPSC পরীক্ষায় আর্থিক অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED-কে দিয়ে তদন্তের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে সরকার। এই ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত মামলাগুলিতে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করার প্রস্তাব রয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে IIT-ISM ধানবাদ, IIM রাঁচি এবং XLRI জামশেদপুরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। JSSC-CGL পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের এক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ
আজ প্রস্তাবিত বিধানসভা অভিযানের আগে রাঁচিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। বিধানসভা চত্বরের আশপাশে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মিছিল চলাকালীন কোনও ধরনের অশান্তির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের সময় পড়ুয়ারা যে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ করেছেন, মিছিলের সময়ও সেই পরিবেশ বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনোজ কৌশিক বলেন, 'সমাজবিরোধী বা উচ্ছৃঙ্খল কোনও ব্যক্তিকে যাতে মিছিলে ঢুকতে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আন্দোলনকারীদেরই।'
রাঁচির SSP রাকেশ রঞ্জন বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কোনও পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।' বিধানসভা ভবনের ৭৫০ মিটারের মধ্যে আগামী ৬ অগস্ট থেকে ১২ অগাস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সময় প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।