
সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারকর্নাটকের রাজনীতিতে বিরাট বদল। মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিচ্ছেন সিদ্দারামাইয়া। আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার সিদ্দারামাইয়ার বাড়িতেই একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট করেন কংগ্রেস নেতা ডিকে শিবকুমার। দৃশ্যতই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিদ্দারামাইয়া। সূত্রের খবর, কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডিকে শিবকুমারের নামই প্রস্তাব করেছেন সিদ্দারামাইয়া।
আজ সিদ্দারামাইয়া তাঁর বাসভবনে একটি ব্রেকফাস্ট মিটিং করেন। সেই মিটিংয়ে মন্ত্রিসভার সব সদস্যও ছিলেন। বাড়ির বাইরে তখন সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের অনুগামী ভিড়। মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা ঘোষণা করেন সিদ্দারামাইয়া। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শিবকুমারের নামও প্রস্তাব করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।
আজই দুপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবেন সিদ্দারাইমাইয়া। সূত্রের খবর, সিদ্দারামাইয়া দুপুর ৩টের দিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও সকালে জল্পনা ছিল যে তিনি সকাল ১১টায় রাজভবনে পদত্যাগ করবেন, পরে জানা যায় যে রাজ্যপাল বেঙ্গালুরুতে উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনায় রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে। এদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও বেঙ্গালুরুতে এসে পৌঁছেছেন।

উভয় নেতা পরস্পরকে আলিঙ্গন করলেন
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে যাওয়ার জল্পনার মধ্যেই ডিকে শিবকুমার এবং সিদ্দারামাইয়ার সাক্ষাৎটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দুই নেতা একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঐক্যের ইঙ্গিত দেন। আবেগঘন পরিবেশে ডিকে শিবকুমার সিদ্দারামাইয়ার পায়ে হাত দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
রাজনৈতিক বার্তা সহ ইডলি-বড়া
প্রাতঃরাশের বৈঠকে ইডলি, বড়া এবং চাউ-চাউ বাথ পরিবেশন করা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রাতঃরাশের বৈঠকে রাজনৈতিক বার্তাটি ছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠক চলাকালীন পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে এবং ডিকে শিবকুমারের চোখ ছলছল করে ওঠে। এরপর তিনি সিদ্দারামাইয়াকে জড়িয়ে ধরে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

ডিকে শিবকুমারের বাসভবনের বাইরে শোরগোল
ডিকে শিবকুমারের বাসভবনের বাইরে তৎপরতা বেড়েছে। ব্যারিকেড তৈরি করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েনও বাড়ানো হয়েছে। এতে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে যে, কংগ্রেস নেতৃত্ব শীঘ্রই রাজ্যের শাসনভার ডিকে শিবাকুমারের হাতে তুলে দিতে পারে।
কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে?
কর্নাটক কংগ্রেসের মধ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। মনে করা হচ্ছে যে, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাংগঠনিক গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনA আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।