সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রীপর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তবে সবাইকে অবাক করে জানান, শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে কেন্দ্রের রাজনীতিতে দেখতে চাইলেও তিনি সেই প্রস্তাব নাকচ করেছেন। তাই রাজ্যসভার টিকিট নেবেন না।
রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিদ্দারামাইয়া বলেন, 'আমার হাইকমান্ড রাজ্যসভার টিকিট দিতে চেয়েছিলেন। আমি না বলে দিয়েছি। কারণ, রাজ্যের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয় থাকতে চাই।'
সম্প্রতি কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয় সিদ্দারামাইয়ার। সূত্রের খবর, সেখানেই সোনিয়া-রাহুল গান্ধীরা সিদ্ধান্ত নেন, সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে ওই আসনে বসানো হবে শিবকুমারকে। সেই সময় কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে এই নিয়ে মুখ খোলা হয়নি। তবে বৈঠকের পরই জানা যায়, সিদ্দারামাইয়ে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বসে আবেগঘন হয়ে পড়েন ওই বর্ষীয়াণ কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, 'সেই ১৯৭৮ সাল থেকে রাজনীতি করছি। প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। আজ পর্যন্ত কোনওদিন নীতি-আদর্শের সঙ্গে আপোষ করিনি। করবও না।'
কর্নাটকের আম জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে চলেন, 'দু বার কর্ণাটকের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। জনতা দল থেকে বেরিয়ে এসে ২০০৬ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলাম। আমাকে যোগ্য সম্মান দিয়েছেন সোনিয়া, রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে।'
নিজের সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর দাবি, কংগ্রেস সরকারের গ্যারান্টি স্কিমের কারণে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনী ইস্তাহারের ৫৫০টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে প্রায় ৩০০টি ইতিমধ্যেই পূরণ করা হয়েছে।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিদ্ধারামাইয়া বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ভুয়ো বয়ান তৈরি করা হয়েছে। তবে তাতে তিনি ভেঙে পড়েননি। কখনও অর্থ বা ক্ষমতার পিছনে ছোটেননি।
রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তিনি আপসহীন বলেও জানান। বিশেষ করে জমি ও জল সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও আপস করবেন না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
এদিন তিনি জানান, রাজ্যপাল বেঙ্গালুরুতে না থাকায় তাঁর বিশেষ সচিবের হাতে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই তা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।