বাংলা বেঙ্গালুরু রেল রুটপশ্চিমবঙ্গ থেকে বেঙ্গালুরু আসছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা। যার ফলে পশ্চিমবঙ্গ এবং কর্নাটক রেল রুট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এমনটাই দাবি করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখলেন কর্নাটকের বিরোধী দলনেতা।
তিনি আরও দাবি করেছেন, হাওড়া এবং শিয়ালদা থেকে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে ১৫ থেকে ১৭টি সাপ্তাহিক ট্রেন চলে। আর সেই সব ট্রেনই অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
কোনও যাচাই ছাড়া চলছে ট্রেনে যাতায়াত
এই চিঠিতে একের পর এক দাবি বিস্ফোরক দাবি করেছেন কর্নাটকের বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, বাংলা থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়া এই সব ট্রেনের মাধ্যমেই অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্র চলছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর ব্যবহার করছে ভুয়ো আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড। আর কোনও যাচাই ছাড়াই তারা ট্রেনে যাতায়াত করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অবৈধ বসবাসকারীদের জায়গা হয়ে উঠেছে বেঙ্গালুরু
এই চিঠিতে তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে সরাসরি তোপ দাবেন। তাঁর মতে, বেঙ্গালুরুতে ভরে গিয়েছে অবৈধ বসবাসকারী। আর এই সব বসবাসকারীরা পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর পূর্ব ভারত হয়েই বেঙ্গালুরুতে প্রবেশ করছে বলেই তাঁর অভিযোগ। আর এই দিকটা নিয়েই তিনি রেলমন্ত্রীকে সতর্ক করেছেন।
ভুয়ে নথি তৈরির ব়্যাকেট হয়েছে ফাঁস
এই অবৈধ বসবাসকারীদের ধরতে ইতিমধ্যেই সচেষ্ট হয়েছে বেঙ্গালুরুর পুলিশ। তাই ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই একটা জালি নথি বানানোর ব়্যাকেটকে চিহ্নিত করেছে তাঁরা। চলছে তদন্তও।
বিপুল যাত্রীর চাপ
এই চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে বেঙ্গালুরুতে আসা ট্রেনগুলিতে রয়েছে বিপুল যাত্রীদের চাপ। যার ফলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলির পক্ষে কাজটা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ছে। আর এই সুযোগেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা বেঙ্গালুরুতে আসছে। ট্রেনগুলি কার্যত অনুপ্রবেশকারীদে 'গ্রিন করিডোরে' পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
কী দাবি তাঁর?
এই চিঠিতে তিনি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে নিরাপত্তা বাড়ানোর একাধিক দাবি তোলেন। তাঁর মতে, হাওড়া, মালদা, খড়্গপুর ও বেঙ্গালুরু টার্মিনালে বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থা চালু করা উচিত। পাশাপাশি তিনি এই সব রুটে আরও বেশি আরপিএফ এবং আইবি মোতায়েন করার পরামর্শ দেন। এছাড়া রেলের যেই রিজার্ভেশন সিস্টেম রয়েছে, সেটাকে SIR এবং NRC-এর তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে জুড়ে ফেলার পরামর্শ দেন। এখানেই শেষ না করে তাঁর আরও দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রেনের অতিরিক্ত ফ্রিকোয়েন্সি মাথায় রাখতে হবে। নইলে বিপদের শেষ থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি।