কেরালার একরত্তির মৃত্যুঠোঁটের একটি ছোট কাটা অংশের চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানেস্থিশিয়া দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কেরালায় ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, টানা পাঁচ দিন শিশুটির স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পর শেষে ছোট্ট শরীরটি হার মানে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, শুক্রবার, ১০ জুলাই কেরালার কান্নুর জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটি মারা গেছে।
বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল শিশুটি। তাদের বিয়ের প্রায় আট বছর পর সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটি গত ৫ জুলাই বাড়িতে খেলতে গিয়ে ঠোঁটে আঘাত পায়। এরপর তাকে দ্রুত পায়ান্নুরের বেবি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে ক্ষতটি সেলাই করার পরিকল্পনা করেন।
শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পরপরই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। এরপর সে আর জ্ঞান ফিরে পায়নি।
তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিশেষ চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালের কান্নুর ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সে মারা যায়।
জানা গেছে, শিশুটির পরিবারের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট অ্যানেস্থেটিস্টের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছে।
মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১২৫ ধারার অধীনে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা মানব জীবন বা ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে বিপন্ন করে এমন কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এই ধারায় সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পরপরই ছেলেটি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। তারা আরও জানায়, নিবিড় পরিচর্যার জন্য হাসপাতালের কান্নুর শাখায় স্থানান্তরের আগে শিশুটিকে জরুরি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
এএনআই-এর বরাত দিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেবি মেমোরিয়াল হাসপাতাল জানিয়েছে, সঠিক মাত্রায় অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া এবং চিকিৎসাসেবা সত্ত্বেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। হাসপাতাল আরও জানায়, অ্যানেস্থেসিয়া যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। ছেলেটির জীবন বাঁচাতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।